সংকট সমাধানে বিএনপি যে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে তা দুর্বলতা নয় বরং সহনশীল রাজনীতির পরিচায়ক- জানিয়েছে বিএনপি।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রতিক্রিয়ায় বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরেক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন।
প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাব নাকচের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মনে করেন তিনি।
সর্বদলীয় বৈঠক ও সংলাপের আয়োজন করতে আবারো সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রিপন।
দলটির নেতা বলেন, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব আছে-এ স্বীকারোক্তি দিতে যে চাপ রয়েছে তা উদ্বেগজনক এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই তা মোকাবেলা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপিও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় তবে তা হতে হবে আন্তর্জাতিকমানের এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বিবর্জিত।
সংবাদ সম্মেলন:
আপনারা সবাই জানেন, আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারপার্সন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একটি জাতীয় সংলাপের আহবান জানিয়েছিলেন এবং এই সংকট সমাধানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করেও কিছু সমাধানের প্রস্তাবনাও তুলে ধরেছিলেন তার সর্বশেষ বিবৃতিতে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় শাসক দলের কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এই প্রস্তাবনাকে কটাক্ষ করেছেন। আমাদের দল ইতিবাচক রাজনীতি করে বলেই-দেশ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থেকেই জাতীয় ঐক্যের স্বার্থেই জাতীয় সংলাপের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার প্রধান বিদেশ থেকে দেশে ফিরেই তার মন্ত্রীদের কথাই পুণরুত্থান চারণ করেছেন-যা দেশবাসীকে সত্যিই হতাশ ও বিস্মিত করেছে।
সরকার প্রধান আজ সংবাদ সম্মেলনে আমাদের দল সম্পর্কে যে অভিযোগ করেছেন-তা নতুন কিছু নয়, এ সব তিনি আগেও বলেছেন। এ সব তিনি ও তার সহকর্মীরা বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বলার জন্য মুখের বুলি হিসেবে প্রতিদিনই আওড়াচ্ছেন। আমরা এর নিন্দা করছি ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সব তথাকথিত অভিযোগের ব্যাপারে আমাদের দলের অবস্থান হচ্ছে-আমাদের দল ও অন্যান্য সকল বিরোধী দল দেশে নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি করে আসছে এবং এ দাবির সপক্ষে আমরা গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করেছি এবং প্রতিবাদ করেছি।
কিন্তু আন্দোলন চলাকালে কোনো ধরনের সহিংসতা-জ্বালাও-পোড়াও এর ঘটনার সাথে আমাদের দল-নেতা-কর্মীদের আদৌ কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এ কথা আমরা বহুবার বলেছি এবং এসব ঘটনায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছি, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবহার দাবিও করেছি। সেন্টার ফর ন্যাশনাল স্ট্যাডিজ (সিএনএস) নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের গবেষণালব্ধ প্রতিষ্ঠান একটি প্রকাশনায় উল্লেখ করেছেন-কিভাবে ওসব ঘটনাগুলোতে সরকারি লোকজন সংশ্লিষ্ট ছিল এবং তারাই জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনায় জড়িত। ওই তথ্য অনুযায়ী সরকার উদোর-পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে ক্রমাগতভাবে বিরোধী দলকে দেশে-বিদেশে হেয় করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে সরকার কোনো ফাঁয়দা এখন পর্যন্ত পেয়েছে কিনা জানি না, তবে হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির বহ্নিশিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রাজনীতির অঙ্গনে। তবে বলতে পারি, এটি কোনোভাবেই সুস্থ রাজনীতির জন্য সহায়ক নয়।
সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী বলেছেন-‘সংলাপে বসার জন্য বিরোধীদলের যে সক্ষমতা থাকা উচিৎ তা নেই’। দম্ভ ও উন্মাষিকতা থেকেই তারা যে এসব বলছেন, তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয় যে, ভোট বিহীন নির্বাচনে গঠিত সরকারের মন্ত্রীদের মুখে এসব বাগাড়ম্বর মোটেই শোভা পায় না। আমরা প্রশ্ন করতে চাই-যোগাযোগ মন্ত্রী তার নিজের মন্ত্রণালয়ে কোনো সক্ষমতা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন ? গোটাদেশের রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরে গেছে। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো তার মন্ত্রণালয়েও অবাধে দুর্নীতি হচ্ছে। শুধু ৫ বছরে ২৭৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে মেঘনা-গোমতি সেতুর টোর আদায়ে। ঢাকার যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর আট লেন প্রকল্পের স্ব”ছতার অভাব নিয়ে দৈনিক পত্রিকায় সম্পাদকীয় পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ‘উন্নয়নমুখী নাকি রাষ্ট্রীয় কোষাগার নয়ছয় করা মুখ্য’ ? এ রকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বিএনপির সংলাপ প্রস্তাবকে ‘রাবিশ’ বলেছেন। তার অদক্ষতা-অযোগ্যতা ও শাসকদলীয়দের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার নামে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো থেকে দশ হাজার কোটি টাকার মতো লোপাট হয়ে ওসব ব্যাংকগুলো এখন ফোকলা হয়ে গেছে। তার মতো এরশাদ স্বৈরাচারের একজন সহযোগীর মুখেই এধরনের অমার্জিত শব্দ ঊচ্চারণ হওয়া স্বাভাবিক। যিনি বর্জ্য জাতীয় কথাবার্তা বলে প্রায়শঃই ক্ষমা প্রার্থনাও করে থাকেন, যা জাতি বারবার প্রত্যক্ষ করছে।