যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করার প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে জামাতে ইসলামী।
বুধবার আপিল বিভাগের রায়ের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদের নামে গণমাধ্যমে এ বিবৃতি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী জনাব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সরকারি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামীকাল- বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মকবুল আহমাদের নামে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, বিনা অপরাধে এবং আনীত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পরও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে জনাব মুজাহিদকে সরকারি পরিকল্পনায় হত্যার উদ্দেশ্য এ দণ্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে গোটা জাতি এ রায়ে হতাশ হয়েছে।
প্রতিটি রায়েই উঠে এসেছে একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সময় এ জামাত নেতাদের পরিকল্পনায়, তাদের নেতৃত্বেই যে রাজাকার, আল বদর বাহিনীর মত সশস্ত্র দল গড়ে তুলে বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ও ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ ঘটানো হয়েছিল,
বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মুজাহিদ একাত্তরে ছিলেন জামাতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি। সেই হিসেবে পদাধিকার বলে তিনি আল বদর বাহিনীরও নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়েই ওই বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ঢাকার মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দখলদার পাকিস্তান সেনাবাহিনী ক্যাম্প তৈরি করে, যেখানে রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হত। পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের শীর্ষ নেতা মুজাহিদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল সেখানে। ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসারের সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী নানা অপরাধের পরামর্শ ও ষড়যন্ত্রও করতেন তিনি। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই ১০ ডিসেম্বর থেকে বুদ্ধিজীবী নিধনসহ গণহত্যার মতো ঘটনা সংঘটিত হয় বলে মামলার বিবরণে বলা হয়।
এর আগে আপিল বিভাগে মুজাহিদসহ অন্য জামাত নেতাদের রায়ের পরও হরতাল ডাকে জামাত। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামাত নেতাদের রায়ের পরও একই কর্মসূচি দেয় দলটি, যাতে সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা চালানো হয়।