বর্তমান সরকারের অধীনে কখনও জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি এ প্রশ্ন রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আবারো সংলাপের আহ্বান জানান।
এ সময় তার বক্তব্য জ্বালাও-পোড়াও, সহিংস আন্দোলনের পথ ছেড়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন বিএনপি প্রধান।
এছাড়া, জনসভায় রাজনৈতিক সংকট মোকাবলায় দ্রুত আরেকটি নির্বাচনও দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার নিজের এবং দলের কঠোর অবস্থানের কথা।
আজকের দিনটি-৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস বলে সমাবেশে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
জোর করে ক্ষমতায় বসে না থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘মানুষ হত্যা’ করে দেশে রাজতন্ত্র কায়েম করার চেষ্টায় আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
খালেদা জিয়া বলেন, বহু চেষ্টা করেছেন— এর আগে একবার চেষ্টা করেছেন একদলীয় শাসন কায়েম করার এখন আবার করছেন।
মানুষ গুম করে, খুন করে রাজতন্ত্র কয়েম করার যে চেষ্টা আপনারা করছেন, আমার মনে হয় তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।
সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ‘ফাঁদে ফেলার’ জন্য কথায় কাথায় নতুন আইন করছেন বলে অভিযোগ করেন খালেদা।
তিনি বলেন, জনগণকে কখনো আটকানো যায় না। … যে আইনে জনগণের কোনো কল্যাণ করে না সেটা মানুষ কোনোদিন গ্রহণ করে না।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত করেছে—ওই নির্বাচন ঠিক ছিল এ প্রশ্ন রাখেন খালেদা জিয়া।
এ সময় এ সরকারের আমলে প্রতিটি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচন ছিলও কারচুপির নির্বাচন বলে উল্লেখ করে তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসুন— না হলে এ দেশের মানুষ জেগে উঠলে আপনাদের কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
তিনি বলেন, আজকের এ দিনে আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে সেজন্য আমরা প্রতি বছর এ দিনে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ আমাদের এ দিবসও পালন করতে দিচ্ছে না।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি—ভোট কেন্দ্রে মানুষ ছিল না ছিল কুকুর ফলে এ সরকার যেমন অবৈধ, এ সংসদও অবৈধ।
তিনি বলেন, ‘এ সরকার অবৈধ— এ কথা উল্লেখ তিনি আবারো বলেন, এ সংসদও অবৈধ।’
নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে খালেদা জিয়া আবারো অযোগ্য বলে অভিহিত করে বর্তমান কমিশনারদের পদত্যাগের কথা বলেন।
খালেদা জিয়া তার বক্তব্য বলেন, গুম খুন করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। জনগণকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না–এ সরকারের পতন হবেই।
সরকার সমাবেশে ভয় পায় বলে সময় বেধে দিয়েছে বলে জানান তিনি।
পৌর নির্বাচন সম্পর্কে খালেদা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সব পৌরসভায় বিএনপি জয় লাভ করত। এ সরকার জনগণের রায় ছিনিয়ে নিয়েছে যেটা আপনারা দেখেছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সংকট নিরসনে সরকারকে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।
নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে আওয়ামী লীগকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন বিএনপি প্রধান।
নিজ দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান অহিংস আন্দোলনে সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে।
৫ জানুয়ারি নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিটা বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনের লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চলছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে বেলা সোয়া ২টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়েছে।
সমাবেশের শুরুতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন। মঞ্চে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা রয়েছেন। বেলা আড়াইটার পর সমাবেশস্থলে আসেন খালেদা জিয়া।
এক বছরের বেশি সময় পর উন্মুক্ত কোনো স্থানে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
সবশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ২০-দলীয় জোটের জনসভায় অংশ নেন তিনি।
এরপর গত বছরের ৫ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে খালেদা জিয়ার যোগ দেয়ার কথা ছিল। তিনি তার গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি। সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে সবশেষ ২০১২ সালে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। অবশ্য গত বছর পয়লা বৈশাখে দলীয় কার্যালয়ের সামনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।