বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ প্রাথমিকভাবে ১৯ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনন্সিটিউশন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান- এই ৩টির যেকোনো একটি স্থানে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠিও দেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।
অনেকটা আকস্মিকভাবেই আসে বিএনপির এ জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা। ২০০৯ সালের পর একবারও কাউন্সিল করতে না পারা বিএনপি আগামী মার্চে কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ওইদিন মির্জা ফখরুল সুনির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ আর ভ্যেনুর নাম বলতে না পারলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ১৯ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ।
এ জন্য রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনন্সিটিউশন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এই ৩টির যেকোনো একটি স্থানে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে আবেদনও করেছে দলটি।
এবারের কাউন্সিলে খালেদা জিয়ার পুনরায় দলের চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়েই আছে, এবং এ বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সায় আছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর থেকেই দলের হাল ধরে চেয়ারপার্সনের পদে আছেন খালেদা জিয়া।
এদিকে, গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ বিলুপ্ত করে কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির কথা ভাবছে বিএনপির হাই কমান্ড। আর, কো-চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে নির্বাচনের পক্ষেই মত বেশি।
মহাসচিব পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যিনি ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাকেই এ পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী বলে ভাবা হচ্ছে। তবে, তাকে মহাসচিব পদে দেখতে চান না এমন একটি গ্রুপও সক্রিয় আছে দলে।
এ কারণে মহাসচিব পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কেউই বিএনপির মহাসচিব হতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।
কেমন কমিটি চান বিএনপির নেতা-কর্মীরা.? এমন প্রশ্নে দলের মহানগর ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চান, যোগ্যতা ও বিগত আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতা-কর্মীদের যেন মূল্যায়ন করা হয় নতুন কমিটিতে।
তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন সবসময় প্রত্যাশা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না।
এর বাইরেও কাউন্সিল ভন্ডুল করতে সরকার ষড়যন্ত্র শুরু করতে পারে এমন আশঙ্কাও করছেন বিএনপি নেতারা। আর দলের চেয়ারপার্সনের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়াকে এ ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করেন তারা।