রাজনীতির স্বার্থে এবং জনগণের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে’ মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টির সদস্যদের বেরিয়ে আসা উচিৎ--এ মন্তব্য করেছেন দলের কো-চেয়ারম্যানের নতুন দায়িত্ব পাওয়া জি এম কাদের।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় সংস্কৃতি পার্টি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
একইসঙ্গে সংসদে বিরোধীদলের ভূমিকা এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকায় পার্টির অবস্থান সম্পর্কে ‘অস্পষ্টতা’ তৈরি হয়েছে –‘দূর করে’ মানুষের আস্থা অর্জন করতে বলে জানান তিনি।
প্রশাসন, অর্থবল, পেশিশক্তি নেই—কমাত্র শক্তি জনসমর্থন আর এটা যদি না থাকে তাহলে আমরা শূন্য এ কথা জানিয়ে কাদের বলেন, আমাদের জনসমর্থনও দিন দিন কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে।
পৌর নির্বাচনের সময় বহু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে সরকারি দলের সমর্থকরা তাদের দলকে ভোট দিচ্ছে যারা বিরোধী, তারা বিএনপিকে বেছে নিচ্ছে, জাতীয় পার্টির অবস্থান জনগণের কাছে অস্পষ্ট কারণ জাতীয় পার্টি একদিকে বিরোধীদল, আবার অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রিসভায় আছে।
তিনি বলেন, মানুষ জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল নয়, সরকারেরই অংশ মনে করে— এ কারণে পৌরসভা নির্বাচনে তারা লাঙল মার্কায় ভোট না দিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছে মনে করেন তিনি।
আর দল পুনর্গঠনের ফলে নেতাকর্মীরা পুনরায় উজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে করেন নতুন মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। সকালে বনানীতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
জাতীয় পার্টি কারও ক্ষতি চায় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কারও বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই। বক্তব্য একটাই, আমরা কোয়ালিশন বিরোধীদল চাই না। আমরা জনগণের হয়ে কথা বলতে চাই, জনগণের আস্থা অর্জন করতে চাই। কারণ, জনগণ চাচ্ছে আমরা যেন এগিয়ে যাই। এটা আমার কথা না, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কথা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জি এম কাদের বলেন, সংসদ সদস্যরা সংসদে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন— সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা ও সংসদে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কাজ তারা করবেন।
সংসদে আমাদের কার্যকর এবং সত্যিকারের বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করতে হবে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা করতে হলে জনগণের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থেই এটা করতে হবে।
দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টি অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে শত্রু নয়, প্রতিপক্ষ মনে করে আর জনগণের আকাঙ্ক্ষর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্বে ফেরা রুহুল আমিন হাওলাদারকেও এ অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেয়া হয়। অন্যদের মধ্যে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোহেল রানা, আব্দুস সবুর আসুদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এ টি এম গোলাম মওলা চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
গত ১৭ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর এ প্রথম দলীয় বিষয়ে কোনো অনুষ্ঠানে কথা বলেন বিগত মহাজোট সরকারের মন্ত্রী জি এম কাদের।