চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে (অব.) বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগে করেন, ‘বিচারবুদ্ধিহীন মন্তব্য করে আপিল বিভাগের সাবেক এ বিচারক উচ্চ আদালতকে ‘বির্তকিত’ করছেন। তার কথা শুনলে মনে হবে কোনো কসাই কথা বলছেন, একজন বোধ, বুদ্ধি, বিচার সম্পন্ন মানুষের কথা এটি নয়।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে থাকলে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী কার মুখপাত্র ছিলেন, এটা গোটা দেশবাসী জানে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী আদালত প্রাঙ্গণকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র বানানোর চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের উচ্চ আদালত মানুষের শেষ ভরসাস্থলকে আপনারা বানিয়ে তুলেছিলেন আওয়ামী শাসক গোষ্ঠীর কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র— সেটা যখন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছেন না, তাই খেদ হচ্ছে মানুষের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বলেই এ আক্রমণ।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সত্য কথা বলা বন্ধের প্রথম ভূমিকা রেখেছিলেন, আদালতের মতো পবিত্র অঙ্গনকে কলুষিত করেছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তিনি আদালত প্রাঙ্গণকে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি বাস্তবায়নের কেন্দ্র বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আজ যখন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ন্যায্য কথা বলছেন, সত্য, সংবিধান এবং আইনের শাসনের কথা বলছেন, এখন তা সহ্য করতে পারছেন না।
বিএনপির এ নেতা বলেন, এ দেশে ব্রিটিশ আমল থেকে উচ্চতর আদালত কখনো এত বিতর্কিত ও অশ্রদ্ধেয় হয়নি। এটা করেছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী আর খায়রুল হকরা (সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারম্যান)।
রিজভী বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই মাহমুদুর রহমানের মুক্তি হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, শওকত মাহমুদ, আবদুল মান্নান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপির কারাবন্দি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিয়ে তাদের মুক্তি দেয়ারও দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, কাজী আবুল বাশার, বেলাল আহমে, রফিক শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত: গতকাল বিচারপতি শামসুদ্দিন তার অবসরের পর লেখা রায় ও আদেশ জমা দিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা রায় লিখতে পারবে না… এই কথা বহু আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন। উনি (প্রধান বিচারপতি) খালেদা জিয়ার মুখপাত্র হয়ে বিএনপির এজেন্ডা চরিতার্থ করার জন্য এটা বলেছেন। উনার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।
এরমই মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রধান বিচারপতির ওই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেও বিএনপি নেতারা তাতে জোর সমর্থন দিয়ে বলে আসছেন, বিচারকের অবসরের পরে লেখা হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের রায়ও ‘অবৈধ’ প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ, প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পূর্তিতে গত ১৭ জানুয়ারি এক বাণীতে বিচারপতি এস কে সিনহা অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখাকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলার পর নানামুখি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে যা এখনো চলছে।