বিএনপি প্রার্থীদের হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চাইছে সরকার—এ মন্তব্য করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সাতক্ষীরায় এক যুবদল নেতা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় আর জয়পুরহাটে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবদুর রবকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়— এখনো তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সরকারের নির্দেশে বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির কার্যালয় ও বাড়িঘর ভাঙচুর করছে।
রিজভী বলেন, সরকার গণতন্ত্রের মৃতদেহের ওপর দাঁড়িয়ে আছে— তারা বিরোধী দলমুক্ত একদলীয় শাসন কায়েমের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে— এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাই যুদ্ধের ময়দানে আরামদায়ক প্রাচীর তুলে সেখানে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা যায় না, জালিম সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যে রক্তঝরা আক্রমণ চালাচ্ছে, তার কাউন্টার অ্যাটাক করতে হবে তবে আমাদের সেই প্রতি আক্রমণ হচ্ছে জনগণের সম্মিলিত প্রয়াসের গণ-আন্দোলন।
একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। এ জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পুলিশ, র্যা বসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে জানান তিনি।
এ সময় তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি লুকিয়ে রাখায় সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিচার শুরু করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতকে আওয়ামীকরণের অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে গেছেন সাবেক এ বিচারপতি।
সাবেক এ বিচারপতি সম্পর্কে রিজভী বলেন, শামসুদ্দিনের ছিল দ্বৈত নাগরিকত্ব—একজন বিচারপতির কী করে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকতে পারে? এটা সম্পূর্ণরূপে অনৈতিক। এ ধরনের ব্যক্তি কখনোই নিরপেক্ষ বিচার করতে পারেন না। দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি লুকিয়ে রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য তার বিচার হওয়া উচিত। এ জন্য শাসমুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর উদ্যোগ নিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
রিজভী অভিযোগ করেন, সরকার একদলীয় শাসন কায়েমের জন্য যাদের ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছে, তাদের অন্যতম হচ্ছেন সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি উচ্চ আদালতকে আওয়ামীকরণের অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে গেছেন।