বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও এজেন্টরা পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তার উপস্থিতিতেই দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতাহাতির ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। জুতা পায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকের শহীদ বেদীতে ওঠার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন বিএনপিরও বেশ কিছু নেতা-কর্মী।
ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২ টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে দেড়টার দিকে শহীদ মিনারে পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পথে হাইকোর্ট মোড় ও দোয়েল চত্বরে দু'দফায় আটকানো হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর।
এরপর শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকেই শহীদ বেদীতে উঠতে গেলে স্বেচ্ছাসেবীদের বাধার মুখে পড়েন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর চড়াও হন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। আহত হন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। অনেকেই আবার জুতা পায়ে উঠে যান শহীদ মিনারে—এমন অভিযোগ এসেছে স্বেচ্ছাসেবকদের পক্ষ থেকে।
বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে তৎপর হয় পুলিশ। লাঠিপেটায় আহত হন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।
ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায়, শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী জুতা পায়ে শহীদ বেদীতে উঠেছে ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন রিজভী।
তিনি বলেন, বিএনপির কেউই এমন কাজ করেনি-এটা অপপ্রচার।
বিএনপি ভাষা শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় সব সময়ই সচেষ্ট বলে তিনি জানান।