পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যোগেশ্বর রায় হত্যার ঘটনাকে মানবতাবোধের অন্ধ হিংস্রতা ও বিকৃত পশুপ্রবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ওই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মগুরুকে ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যা ও অন্যান্য পূজারিদের গুরুতর জখমের আতঙ্ক-সঞ্চারী ঘটনা অশুভ আগামীর ইঙ্গিত বহন করে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমরা যেন জাতির গোরস্থানের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। এই চূড়ান্ত দুঃসময়ে জনমনে একটা প্রশ্ন জেগে উঠছে, সরকার কী করছে?’
বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ইতালীয় নাগরিক তাবেলা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু হয়েছে এ নিষ্ঠুরতম বর্বর পরিকল্পনার যাত্রা। গত পরশু দিন পঞ্চগড় জেলাধীন দেবীগঞ্জে গিয়ে পৌঁছেছে— আর এসব বর্বর পরিকল্পনার শিকার হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন অনেকগুলো মানবসন্তান। এদের মধ্যে যেমন বিদেশি নাগরিক আছেন, তেমনি আছেন দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ও ধর্মাচার্য, ব্লগার, প্রকাশকসহ বেশ কিছুজন।
রক্তপাত থামাতে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, কয়েক মাস ধরে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরকার নির্বিকার, হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহাই সরকার করতে পারেনি। এ প্রাণবিনাশী আক্রমণ প্রতিহত করে প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের ধরা তো দূরে থাক, উল্টো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপিসহ বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো এবং নেতা-কর্মীদের নামে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলায় জড়ানো হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিএনপি সরকারের আমল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগপ্রধান ও তার নেতারা বিএনপিকে জড়িয়ে বাংলাদেশে জঙ্গির অস্তিত্বের কথা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ফোরামে বলছেন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই আলট্রা প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে আসছেন তারা। অথচ বিএনপি সরকারের আমলেই জঙ্গি নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থা দেশে সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনাগুলোতে একটি জঙ্গি সংগঠনের দায় স্বীকারের বার্তার বিষয়ে বারবার উল্লেখ করলেও সরকার সেটিকে পাত্তা দেয়নি। সরকার এখন দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করছে যে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই— এটি মিথ্যাবাদী রাখালের চিত্কারের লক্ষণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।