ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পেছানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। ২৮ মার্চ সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হলেও তা পেছানো হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের নেতারা। বৃহস্পতিবার দেশটিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তারা এ কথা বলেন।
তবে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। পাঁচ দফায় ইউপি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর জুনে সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান নেতারা।
তারা বলছেন, ইউপি নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত থাকায় বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের পক্ষে সম্মেলনে অংশ নেয়া দূরূহ হয়ে পড়বে। তাই পেছানো হচ্ছে সম্মেলন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, ‘তখন তো ইউপি নির্বাচনের ব্যাপারটি ছিলো না। তবে ৫ দফায় নির্বাচন দেয়ায় আমরা তখন এই নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত থাকবো তাই এ জাতীয় সম্মেলন পেছানো হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের যারা কাউন্সিলার তারা তো তৃণমূল থেকেই আসবে। ইউপি নির্বাচনে কিছু কাউন্সিলন ও ডেলিগেট আসতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় সম্মেলন সফল হবে না।’
এক্ষেত্রে ২৮ মার্চ নয়, সম্মেলন হবে জুনে। ৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। এবার ছয় দফার ৫০ বছর পূর্তি। আর ২৩ জুন দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এ দিনগুলোতে সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ ভাবা হচ্ছে। তবে যাই হোক কেন, বিষয়টি চূড়ান্ত হবে কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী সভায়।
কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মনে হচ্ছে যা ইউপি নিবার্চন শেষ হওয়ার পরই আবার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। কার্যনির্বাহী সংসদের আগামী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি মেয়াদ পূর্ণ করেছে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। আগামী জুন পর্যন্ত কমিটির মেয়াদ বাড়ানো আছে। ২৮ মার্চ সম্মেলন না হলে ফের বাড়াতে হবে মেয়াদ। এক্ষেত্রে প্রয়োজন কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। আর তা হতে হবে ২৮ মার্চের আগেই।
গত ৯ জানুয়ারি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ২৮ মার্চ ২০তম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঠিক করে আওয়ামী লীগ। এ আয়োজন সফল করতে দলে বেশ জোরোশোরেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতির বিভিন্ন কমিটি। এসব কমিটি বৈঠকেও বসেছে কয়েকবার।