দীর্ঘ ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলকে ঘিরে এরইমধ্যে সকল প্রস্তুতি শেষ। কাউন্সিলকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখরতার পাশাপাশি আছে উৎকণ্ঠাও। কারা আসছেন স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটিতে। কি কি পরিবর্তন আসছে দলের গঠনতন্ত্রে?
যেহেতু কাউন্সিলের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। সার্বিক দিক বিবেচনায় এবারের কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন, দলের নেতাকর্মীদের একটা বড় সম্মেলন আর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে থাকছে না চমকপ্রদ নতুন কিছু।
কাউন্সিলকে সামনে রেখে কার্যালয়ের সামনের পুরোটাই ঢেকে দেয়া হয়েছে কিং সাইজ ব্যনার দিয়ে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপচে পড়া ভীড় কাউন্সিলের প্রবেশ কার্ড সংগ্রহ করতে আসা কাউন্সিলর আর নেতাকর্মীদের।
নয়াপল্টন এলকার প্রায় পুরোভাগ জুড়েই আছে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের পোস্টার-ব্যানার। এতো গেলো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের চিত্র।
কাউন্সিলের ভেন্যু রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন। সেখানেও শোভা পাচ্ছে পদ প্রত্যাশীদের পোস্টার। সবমিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ এখন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। অনুমতি মিলেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ ব্যবহারেরও।
শনিবার সকাল ১০টায় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুটি সেশনের একটি উন্মুক্ত আরেকটি রুদ্ধদ্বার। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেবেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ কাউন্সিলর।
সংশোধন হবে দলের গঠনতন্ত্র। কাউন্সিলররা দলের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য রাখবেন চেয়ারপারসনের কাছে। আর উন্মুক্ত সেশনটি হবে বাইরের অংশে।
এদিকে, চূড়ান্ত হয়ে গেছে দলের চেয়ারপারসন কী বক্তব্য রাখবেন তাও। ঘণ্টাব্যাপী ওই বক্তব্যে দলের নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন খালেদা জিয়া। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারনকৃত বক্তব্যও প্রচারের কথা রয়েছে।
তবে কাউন্সিলের আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। এবারের কাউন্সিলে শুধুমাত্র মহাসচিব পদের ঘোষণা আর গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন ছাড়া চমকপ্রদ কিছুই থাকছে না।
কাউন্সিলের আলোচনার শুরুতে অনেকের নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৫ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুলই হবেন বিএনপির মহাসচিব..এমন খবরই জানা গেছে দলীয় সূত্রে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে সময় লেগে যেতে পারে আরো মাস খানেক। এর ফলে কাউন্সিল জৌলুশ হারাবে বলে মনে করছেন অনেক নেতাকর্মী।
কাউন্সিলর-ডেলিগেটস, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা ও আমন্ত্রিত অতিথি সব মিলিয়ে ১০-১৫ হাজার মানুষের সমাগম আশা করছে বিএনপি। বিএনপির সবশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৯ সালে ৮ ডিসেম্বর।
৬ হবছর পর কাউন্সিল হলেও দলের নেতা-কর্মীদের এ সম্মেলনই বিএনপিকে নতুন করে উজ্জিবীত করবে বলেই মনে করছেন সিনিয়র নেতারা।