সংঘাত, প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় জানিয়েছেন দলটির পুনর্নির্বাচিত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনীতে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় ‘ভিশন টুয়েন্টি থার্টি’ নামে একটি পরিকল্পনার খসড়া তুলে ধরে খালেদা জিয়া দাবি করেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।
ওই পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের কথাও বলেন তিনি।
ক্ষমতায় যাওয়াই বিএনপির মুখ্য উদ্দেশ্য নয়— এ কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য সংলাপের উদ্যোগ নিতে আবারো সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।
তার দল রাজনীতিতে হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে সমঝোতা ও সহনশীলতা চায় বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
বরাবরের মতোই সংলাপ ও দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানান খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বলেন, নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রেখে জনসম্পৃক্ত রাজনীতি করতে হবে-- পাশাপাশি জনগণে অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া আরো বলেন, ভিশন টুয়েন্টি থার্টি এখন খসড়া পর্যায়ে আছে— তবে এর আলোকেই ভবিষ্যতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হবে।
বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকাল পৌঁনে ১১টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন,তারপর বেলুন উড়িয়ে কাউন্সিল উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’ এ শ্লোগান নিয়ে ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এ কাউন্সিল থেকে দলকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে এবং উজ্জীবিত করতে চান তিনি।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাগত বক্তব্যের পর আমন্ত্রিত অন্যান্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ২০ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাউন্সিলর-ডেলিগেটসদের অংশগ্রহণে কাউন্সিল রূপ নেয় উৎসবমুখরতায়।