নির্বাচনে বিএনপি জনগণের কাছে যেতে ব্যর্থ হয়েছে— সে কারণে তাদের চরম ভরাডুবি হয়েছে আর তাই লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে তারা এখন নির্বাচন থেকে সরার চিন্তা করছে এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।
শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
হানিফ বলেন, কেউ যদি ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন বর্জন করতে চায়, তাহলে তো অন্য কারও কিছু বলার থাকে না তবে বিএনপিকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারায় ফিরে আসতে হলে এ ব্যর্থতা মেনে নিতে হবে।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এখানে প্রতিটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ও বর্জনের সে হিসেবে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে কেউই বলে জানান তিনি।
চলমান ইউপি নির্বাচনে প্রথম দুই পর্বের ভোটে ব্যাপক জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ তুলে বিএনপি হুমকি দিয়েছে, তৃতীয় পর্বের ভোটেও চিত্র না পাল্টালে তারা পরবর্তী তিন পর্বের ভোট বর্জন করবে।
ইসির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দ্বিতীয় পর্বে ৫৪ শতাংশ ভোট পড়েছে নৌকা প্রতীকে, ধানের শীষে পড়েছে ১৭ শতাংশ। প্রথম ধাপেও ৭১২ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৪০টিতে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়ে হানিফ বলেন, বাংলাদেশিরাই অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশকে টেনে আনছে। আমাদের দেশের মানুষের একটা মারাত্মক প্রবণতা আছে। সেটা হল বিদেশি কোনো মানুষ দেখলেই আমরা মনে করি, সে সাক্ষাৎ ভগবান। আমাদের দেশের ছোটখাটো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের কাছে জিজ্ঞাস করার কোনো যৌক্তিকতা আছে?
হানিফ বলেন , বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আছেন। ওই সব দেশের কেউ কি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করে? ভারতের কোনো সাংবাদিক কি প্রভাবশালী কোন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে? কিন্তু আমাদের মধ্যে এ প্রবণতাটা বেশি। কোনো কিছু হলেই আমরা বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের কাছে দৌড়ে চলে যাই। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এর আগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে যৌথসভা হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভা শেষে হানিফ সাংবাদিকদের কাছে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, ভোর ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এবং জেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল সাতটায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এ ছাড়া মুজিবনগরে ভোর ছয়টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুজিবনগরের আম্রকাননে শেখ হাসিনা মঞ্চে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।