নিজেদের অধিকার আদায়ে জন্য এদেশের মানুষকে আন্দোলন করতে হবে ন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত ‘মে’ দিবসের শ্রমিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মে দিবস রক্ত দিয়ে অধিকার আদায়ের ইতিহাস, মে দিবসের শিক্ষা নিয়ে আমাদের অধিকার আদায় করতে হবে।
খালেদা জিয়া দাবি করেন, তার সরকারই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছে বর্তমান সরকার কিছুই করেনি।
বর্তমান সরকার ‘জোর করে’ক্ষমতায় বসে আছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে তারা মনে করে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি।
খালেদা জিয়া বলেন, শেখ হাসিনার সরকার সকল দল ‘বন্ধ করে দিয়ে ‘একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তারা নতুন নতুন আইন তৈরি করছে, যাতে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পারে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ‘কখনেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না—মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, হাসিনা যে রকম সরকার, নির্বাচন কমিশনও সেই রকম।
কথায় কথায় উন্নয়ন বলে, কী উন্নয়ন তারা করেছে? যতো উন্নয়ন করে তার বেশি তারা চুরি করেছে –গত সাতবছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে আওয়ামী লীগ সরকার বলে অভিযোগ করেন ন তিনি।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে আড়াই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন মন্তব্য করে জয়কে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোহরাওয়ার্দীতে সভামঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। খালেদা জিয়াও হাত নেড়ে শ্রমিকদের অভিনন্দনের জবাব দেন।
সভামঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম প্রমুখ।
এর আগে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বেলা দেড়টার দিকে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ উপলক্ষে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা। -
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সব গুপ্ত হত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত এবং তাদের মদদেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে-এমন দাবি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার।
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভালো নেই শ্রমিকেরা।
সরকার সবার অধিকার হরণ করে লুটপাটে ব্যস্ত বলেও অভিযোগ করে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া গুপ্ত হত্যার জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।