প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত করে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নয়, রাষ্ট্রের উচিত সে যেই হোক সন্দেহজনক লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত করা।
এ সময় বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু করার জন্য সরকারকে একদিন বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়াঁতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
ভোট ও গণতন্ত্রকে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাসনে পাঠিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে— এজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করছে এটি ন্যায্য দাবি। কারণ, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। কিন্তু এই সরকার জানে, বিএনপির দাবি মানলে তারা আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। সে জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সে জন্য তারা জনগণের জন্য কোনো কাজ করবে না। তারা সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, আরও করবে। ব্যাংকব্যবস্থা শেষ হয়ে গেছে। সব জায়গায় একই অবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে রায় হওয়া একটি মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জয়ের (সজীব ওয়াজেদ জয়) বিরুদ্ধে আড়াই হাজার কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের উচিত তার তদন্ত করা। কারণ, জনগণ এই টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চায়।
গাজীপুরের মেয়র (সাময়িকভাবে বরখাস্ত) এম এ মান্নানের মুক্তি দাবিতে ‘মান্নান মুক্তি পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
ওই প্রতিবাদ সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু এই সরকার খেয়ে ফেলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন লুট করার জন্য সেখানকার নির্বাচিত মেয়রদের সরিয়ে দিচ্ছে।
এম এ মান্নানসহ বিএনপির নির্বাচিত সব মেয়রকে কারাগারে ভরে রাখা হয়েছে— এ অভিযোগ তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।
এদিকে, সরকার ওপরে ওপরে সবদিক থেকে ফিটফাট, কিন্তু ভেতরে সদরঘাট—এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, কথাবার্তায় ওদের (সরকার) যা অবস্থা, তাদের বনের বাঘে তাড়া না করলেও মারাত্মকভাবে মনের বাঘে খাচ্ছে। সে কারণে তারা বনে আগুন দিচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রয়াত নেতা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, এ সরকার জনগণকে তো ভয় পায়ই, এমনকি যাঁরা কবরে শায়িত আছেন, তাদেরও ভয় পায়।
বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, নাসির উদ্দিন পিন্টুকে কারাবন্দী করেও স্বস্তি পায়নি। তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।