তুরস্কের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের বিষয়ে একে প্রত্যাহার বলতে নারাজ— পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার বিষয়ে তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো পর্যন্ত এ নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও এ সময় জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্ককে মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না— উল্লেখ করে শাহরিয়ার আলম বলেন, তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অনেক দিনের পুরনো। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে— তবে এর চেয়ে অভ্যন্তরীণ চক্রান্তের প্রভাব অনেক বেশি শক্তিশালী।
শুধুমাত্র নিজামীর জন্যই তুরস্কের মাথাব্যথা থাকায় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলেও তুরস্ক নিজ স্বার্থেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবে বলেও জানান শাহরিয়ার আলম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এখনো রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত নয়। এমন প্রতিক্রিয়া দেখালেও তুরস্ককে পাকিস্তানের সঙ্গে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের আচরণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশের উচিত কঠোর জবাব দেয়া।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরলে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধী একাত্তরের ঘাতক আল বদর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ায় ক্ষোভের চরম অভিপ্রায় হিসেবে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয় তুরস্ক।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর প্রচার করে।
এর আগে নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের পরই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। বদর প্রধানের ফাঁসির তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি গভীর শোক প্রকাশ করে সেখানে বলা হয়, নিজামীর এ ধরনের শাস্তি প্রাপ্য ছিলো বলে তুরস্ক মনে করে না। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ধিক্কার ওঠে সোশাল মিডিয়ায়।