কাউন্সিলের পর পেরিয়ে গেছে দেড় মাসেরও বেশি সময়। এখনো গঠন করা হয়নি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম- স্থায়ী কমিটি। এ নিয়ে দলে বাড়ছে হতাশা, কোন্দল আর অসন্তোষ।
এদিকে, ঘোষিত আংশিক কমিটি এবং ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন ও পদ বানিজ্য নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে তারেক রহমানের।
তবে সব কিছুকে অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়ে বিএনপি নেতারা বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই.দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদও ঘোষণা হবে অচিরেই।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের দিনই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম - স্থায়ী কমিটি। তবে দীর্ঘ ৬ বছর পর গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হলেও সেদিন অনুমোদন পায় কেবলমাত্র দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দুটি। এরপর পেরিয়ে গেছে দেড় মাসেরও বেশি সময়।
এর মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে মহাসচিবসহ মাত্র ৪২টি পদ। আগেরবারের কাউন্সিলের পর ৬ দিনের মাথায় স্থায়ী কমিটি আর ২০ দিনের মাথায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলেও এবার দেড় মাসেও স্থায়ী কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
এ নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ-কোন্দল ঘনীভূত হচ্ছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা তা মানতে নারাজ।
কবে নাগাদ দলের স্থায়ী কমিটি সহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ বলতে না পারলেও নেতারা বলছেন, কাউন্সিলে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এ নিয়ে কাজ করছেন দলের চেয়ারপার্সন।
এদিকে, কাউন্সিলের পর ঘোষিত আংশিক কমিটি এবং ইউপি নির্বাচনে বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মনোনয়ন ও পদ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে।
তবে এ ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোন সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়া, তারেক রহমানের সুপারিশকৃত অনেকের নামই বাদ পড়েছে ঘোষিত আংশিক কমিটি থেকে। শোনা যাচ্ছে এসবের জেরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে মা-ছেলের মধ্যে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে কোনো মতবিরোধ নেই বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। পাশাপাশি তারা বলছেন, কারো বিরুদ্ধে পদ-পদবি আর মনোনয়ন বানিজ্যের অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখা উচিৎ।
এরইমধ্যে ভারতের প্রভাবশালী এক পত্রিকার খবর ভবিষ্যত নেতৃত্বে তারেক রহমানের বদলে তার মেয়ে জাইমা রহমানকে বেছে নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। এমন খবরকে হাস্যকর বলেই মনে করছেন দলের সিনিয়র নেতারা।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দল সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মত বিএনপি নেতাদের।