দেশের কোনো নির্বাচনই জনগণ গ্রহণ করেনি—তাই এ নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সে জাতীয় পার্টির ৮ম জাতীয় কাউন্সিলে এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় সংসদে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের দাবি জানিয়ে এরশাদ বলেন, নির্বাচন হতে পারে দলের ভিত্তিতে, অর্থাৎ ভোটাররা সরাসরি দলকে ভোট দেবেন, প্রার্থীকে নয়। এ পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা হবে না। বর্তমানে যেভাবে বাংলাদেশে সরকার গঠিত হয়, তাতে কোনো দলই ৫০ শতাংশের ওপরে ভোট পায় না। কিন্তু তারা সরকার গঠন করে।
এ সময় জাতীয় পার্টি ছেড়ে যাওয়া নেতাদের আবার দলে ফিরে আসার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারেরও একটি প্রস্তাব দেন এরশাদ।
বিগত ১৯৮২ সালে তার ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল— সেনাপ্রধান হিসেবেই তার ওপর দায়িত্ব এসেছিল তখন যে–কেউ সেনাপ্রধান থাকলে তার ওপর ওই দায়িত্ব আসত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরশাদ দাবি করেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে তিনি ব্যারাকে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন— এজন্য ১৯৮৪ সালে নির্বাচন দিয়েছিলেন কিন্তু প্রধান দলগুলো সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি আর তাই ব্যারাকে ফিরে যাওয়া হয়নি।
কাউন্সিলে উপলক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখোরিত— আনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যানের উপস্থিতি রয়েছেন।
১০টা ২৫ মিনিটে কাউন্সিল স্থলে প্রবেশ করেন সাবেক এ রাষ্ট্রপতি ও দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ, ভাই গোলাম মুহম্মদ কাদের (কো-চেয়ারম্যান) ও অন্যান্য নেতারা।
হালকা গোলাপি রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের কোট, সঙ্গে গাঢ় খয়েরি রঙের টাই পরে এরশাদ মঞ্চের কাছে গাড়ি থেকে মঞ্চে ওঠেন। তার ডান পাশে মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার ও বাম পাশে স্ত্রী রওশনকে নিয়ে আসন গ্রহণ করেন তিনি। সব দ্বন্দ্ব ভুলে, রওশনের পাশের আসনেই বসতে দেখা যায় দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে।
এরপরেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় পার্টির জাতীয় কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।