আজ ১৭ মে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস।
১৯৭৫ সালের রক্তাক্ত পট পরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালের এদিনে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে গণতন্ত্রের পথে দেশকে চালিত করার কাজে আজও তার ছুটে চলা বিরামহীন।
স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা আর ৩ নভেম্বর জেলখানায় চার জাতীয় নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের উল্টোপথে যাত্রা। জলপাই শাসনের রক্তচক্ষুতে প্রগতির পথে চেপে বসে সাম্প্রদায়িকতা।
বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার দেশে ফেরাও নিষিদ্ধ ছিল সেদিন। একসময় রাজনীতি উন্মুক্ত হলেও রাজনীতিবিদদের জন্য সময়টা ছিল সংকটের। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগে তখন নানা মত ও নেতৃত্বের মেরুকরণ।
এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি হয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। পাল্টাপাল্টিতে ভেঙে পড়ার উপক্রম কাউন্সিল। নেতৃত্ব শূন্যতা কাটাতে এই কাউন্সিলেই প্রবাসে থাকা অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয় শেখ হাসিনাকে। এর তিন মাস পর ১৭ মে ভারত থেকে দেশে ফেরেন তিনি।
কখনো ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে কখনো জনসভায় ব্রাশফায়ার করে কখনোবা মুহুর্মুহু গ্রেনেড মেরে— বার বার শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। তবুও তিনি অকুতোভয়। তার নেতৃত্ব আর দৃঢ়তার ফলেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়েছে বাংলাদেশ। সমীহ আদায় করেছে আন্তর্জাতিক বিশ্বের।