ধর্ম নিয়ে ক্ষমতাসীনরা কখনো ইসলামিক হয়ে যাবেন, কখনো ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে যাবেন আবার কখনো নাস্তিক হয়ে যাবেন- সমর্থন আদায়ের জন্য যখন যেটা প্রয়োজন তা করে যাবেন –এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি
এ সময় বিএনপির নেতা দাবি করেন ধর্ম নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘সুবিধাবাদী’।
ইসরায়েলের সঙ্গে বিএনপির ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ নাকচ করে রিজভী বলেন, জনগণের ‘সহানুভূতি’ আদায়ের জন্য এ ‘কল্পকাহিনী’ সাজিয়েছে তারা।
‘খালেদার ইহুদি ষড়যন্ত্র’ মোকাবেলায় ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর প্রতি আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় উল্টো ধর্ম নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আসলাম চৌধুরী নয়, মোসাদ ষড়যন্ত্রের মূল হোতা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
হানিফের এ কথার জবাবে, ইসলামী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘ইহুদি-নাসারারা ইসলামের শত্রু। তারা যখন ফিলিস্তিনের মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করেছিল, তখন এ বাংলাদেশে সমস্ত ধর্মভিত্তিক দলগুলো আন্দোলনে নেমেছিল। আজ আপনারা কোথায়? আপনারা আজ কেন চুপ করে আছেন? আমি আশা করব, ধর্মভিত্তিক দলগুলো খালেদার বিএনপির ইহুদি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় মাঠে নামবে। আন্দোলনের মাধ্যমে আপনারা এই বার্তা দেবেন যে এই বাংলাদেশে ইহুদি ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ইসরায়েল বা ইহুদিদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না।
গত রোববার এক দলীয় সভায় হানিফ দাবি করেন, বিএনপি এখন ইসরায়েল ও তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ‘হাত মিলিয়েছে’ –এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এর প্রতিবাদে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে মাঠে নামার আহ্বান জানান রিজভী।
তার ওই বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ‘ধার্মিকদের জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত’ করার অভিযোগ করেন রিজভী।
যারা ধার্মিক মানুষ তাদেরকে বার বার চিত্রিত করেছেন জঙ্গি হিসেবে। ইসলামিককেই প্রতিপক্ষ করেছেন তারা। সেই ধর্মের ওপর তারা বার বার কটূক্তি করেছেন এবং তাদের সমর্থিত বিভিন্ন মানুষ তথা বুদ্ধিজীবীরা এসব কথা বলেন- এ বিএনপি নেতা।
রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান থেকে আল্লাহর নাম মুছে দিয়েছে— এখন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে কল্পকাহিনি প্রচার করছে। তিনি এটিকে জনগণের সহানুভূতি আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগের নাটক বলে আখ্যা দেন।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য যখন যাকে প্রয়োজন, তখন তাকে ব্যবহার করে ও করবে, আওয়ামী লীগের কোনো আদর্শ ও নীতিবোধ নেই।
বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পর এখন আওয়ামী লীগ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) নিয়ন্ত্রণে আইন করছে। বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন বিল সংসদে আনা হচ্ছে, যাতে কেউ নিচু গলায়ও সরকারের সমালোচনা করতে না পারে। এ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারের বেপরোয়া দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারকে নিরাপদ করা হবে; যাতে কোনো বেসরকারি সংগঠন ও ওয়াচ ডগ সরকারের রাষ্ট্রীয় লুটপাট, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে না পারে।
চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও রিজভী নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এখনো ক্ষমতাসীনেরা ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।