দলমত নির্বিশেষে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া।
রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়াপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি গুলশানে হামলার ঘটনা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে রাজধানীর গুলশানে জঙ্গি হামলায় হতাহতদের স্মরণে। কালো পতাকা উড়ানো হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও।
রোববার বিকেল ৩টায় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার কথা থাকলেও তা শুরু হয় সাড়ে ৩টার পর। আর গুলশানে জঙ্গি হামলার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে সোয়া ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
শুরুতেই ধন্যবাদ জানান তিনি, গুলশানের ঘটনায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেয়া যৌথবাহিনীকে। শোক প্রকাশ করেন নিহত পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্যদের জন্য; সমবেদনা জানান স্বজনদের প্রতি। এছাড়া, যেসব দেশ সহানুভূতি জানিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছে, তাদেরকেও ধন্যবাদ জানান খালেদা জিয়া।
কেন জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে সে বিষয়েও বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক শক্তির অভাবেই মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে সন্ত্রাসবাদ।
বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, সরকার সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সমস্যার শেকড়ে না গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের পাঁয়তারা করছে।
জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সবরকম বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, কোনো অর্জনই টিকবে না—যদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে না পারি তাই আসুন সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলি।
চেয়ারপারসন আরো বলেন, আমাদের একতাবদ্ধ হতেই হবে— কে ক্ষমতায় থাকবে, কে থাকবে না, এটি বড় কথা নয়, একদিন আমরা কেউ থাকবো না, কিন্তু দেশটা থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্রি. জে. (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ।