সরকারের ব্যর্থতায় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করে–এর দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বানও জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করে এ কথা বলেন।
গণতন্ত্র না থাকার কারণে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের প্রতি খালেদা জিয়া আহ্বান জানান, দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের।
প্রতিবছরের মতো এবারো বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। প্রথমেই বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। পরে, বিএনপি ও জোটের শরীক দলের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় খালেদা জিয়া বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে ভালো নেই দেশের মানুষ।
জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রকৃত জঙ্গিদের না ধরে ব্লেম গেম শুরু করেছে।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বন্ধে বিএনপির ঐক্যের ডাকে সরকারি দল সাড়া না দিয়ে দলটির নেতারা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, হানাহানির রাজনীতি ছেড়ে সৌহার্দ-সম্প্রীতির পথে আসার।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
১৮টি দেশের কূটনীতিকরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ভারত ও পাকিস্তানের কোনো কূটনীতিককে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
এর আগে বেলা সোয়া ১২ টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হান্নান শাহ, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে খালেদা জিয়া প্রথমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর বনানী কোকোর কবর জিয়ারত করবেন।