রাজনীতি

দেশের জনগণই জঙ্গিদের প্রতিরোধ করবে: আ' লীগ

 মানববন্ধন
মানববন্ধন

জঙ্গিদের স্থান বাংলাদেশে নেই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, কঠোর হাতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা হবে—অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী দেশের জনগণই জঙ্গিদের প্রতিরোধ করবে আর এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা।

মঙ্গলবার রাজধানীতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নেতারা এ সব কথা বলেন।

আরেক অনষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, কোমলমতি তরুণদের বিপদগামী করার মাধ্যমে জঙ্গিরা এ দেশকে অকার্যকর বানাতে চায়।

তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী এদেশের জনগণ জঙ্গিদের প্রতিরোধ করবেই। আর এ জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেক পিতা-মাতাকে সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানরা কে কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে তার খোঁজ-খবর রাখতে হবে। নিখোঁজ সন্তানদের পিতা-মাতার উচিত থানায় ডায়েরি করা। পিতা-মাতা যদি থানায় সন্তান নিখোঁজের ডায়েরি না করে, তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে।

নুরুল ইসলাম বিএসসি জঙ্গি প্রতিরোধে প্রত্যেককে যার যার কর্মস্থল, পাড়া-প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি ঢাকার গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়াতে সংঘটিত জঙ্গি হামলা আর যাতে না হতে পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

ঢাকার ইস্কাটনস্থ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন।

তিনি মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান এবং ঈদের ছুটি শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শোকরিয়া আদায় করেন।

জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, মোসাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের পর থেকেই দেশে জঙ্গি হামলা বেড়েছে। তাই এই জঙ্গিবাদ দমন করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ধর্মীয় উগ্র মৌলবাদ: জঙ্গি নামে অপতৎপরতার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা মহাজোট কেন্দ্রীয় কমান্ড এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিএনপি-জামাতের সঙ্গে আইএস-মোসাদের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মোসাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের পর থৈকেই জঙ্গি আক্রমণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপির সাথে মোসাদ এবং আইএস'র সম্পর্ক রয়েছে। ’৭১-এ যেভাবে একটি গোষ্ঠী আলবদর, রাজাকার সৃষ্টি করেছিল, ঠিক তেমনি ভাবে মোসাদ এবং আইএস'র সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে একটি গোষ্ঠী অস্থিতিশীল করতে চায়।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গুলশান হামলার পর তিনি প্রথম সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পরবর্তীতে তিনি আবার বললেন, নির্বাচন দিলেই এই সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে। খালদা জিযার এই কথা থেকেই বোঝা যায় তিনিও ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা ও গুপ্তহত্যাকে বিগত সময়ের পেট্রোলবোমা হামলার নতুন সংস্করণ বলে মন্তব্য করেছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

গুলশান ও শোলাকিয়ার সন্ত্রাসী হামলা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহত্যার কথা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনার বেনিফিশারি হচ্ছেন খালেদা জিয়া। শুধু শুধু আইএস-এর কথা বলা হচ্ছে। আমাদের দেশে কোনো আইএস নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পেছনে খালেদা জিয়া ও তার নেতৃত্বাধীন জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে। দেশের অগ্রগতি ও শান্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। এসব হামলার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশে আইএস ও আল-কায়দার কোনো অস্তিত্ব নেই উল্লেখ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও শোলাকিয়ায় হামলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এ ধরনের হামলা জামাত-শিবিরের নতুন কৌশল।

তিনি বলেন, জামাতের ‘মদদপুষ্ট’ নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাহিনী এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী গণবিচার আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শাজাহান খান বলেন, দেশে আল কায়দা ও আইএস নেই সরকারের এ কথা বার বার বলার পরও একটি আন্তর্জাতিক মহল এর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান জঙ্গি অপশক্তিকে প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ সংগঠনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

জনগণকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে আগামীকাল ১৩ জুলাই সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং ১৯ জুলাই থেকে তিন মাসব্যাপী ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময়সহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি জানান।

শাজাহান খান বলেন, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এ মাতৃভূমিকে কখনই ধর্মান্ধ, খুনী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে জিম্মি হতে দিবো না। দেশের সকল শান্তিকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদের চিরতরে উচ্ছেদ করা হবে। সূত্র বাসস।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ