সরকার উৎখাত করে দেশকে জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করতেই রাজধানীর গুলশান ও শোলাকিয়ায় বিএনপি-জামাত হামলা চালিয়েছে।
বুধবার রাজধানীতে আলাদা আলাদা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকারের মন্ত্রীরা।
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই এসব হামলা ছিল আন্তর্জাতিক চক্রান্তেরই অংশ।
নিরাপদ খাদ্য ও খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারের আয়োজন করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অংশ নেয় খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। সেমিনারের উঠে আসে খাদ্য ভেজাল রোধে বিভিন্ন অধিকারও অনুশাসনের কথা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, কিছু কুচক্রী মহল দেশের ভাবমূর্তি ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। আর এটি আন্তর্জাতিক চক্রান্তেরই অংশ।
সরকারকে উৎখাতে এ পর্যন্ত যতগুলো জঙ্গি হামলা হয়েছে সবগুলো ঘটনারই মদদ দাতা হচ্ছে বিএনপি এবং জামাত, এ অভিযোগ করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।
জঙ্গি হামলার মদদ দাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি ও দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ১ জুলাই (শুক্রবার) রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হত্যাযজ্ঞ চালায় জঙ্গিরা। ১২ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মি সংকটের রক্তাক্ত অবসান ঘটে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেনা নেতৃত্বাধীন সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে। অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যাদের জঙ্গিরা আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছিল।
এ ২০ জনের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক ও ৩ জন বাংলাদেশি। উদ্ধার অভিযানে নিহত হয় আরও ছয় জন। এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। আহত হন কমপক্ষে ৪০ জন। এছাড়া ঈদের শোলাকিয়ায় ঈদগাহ ময়দানের কাছে এক কিলোমিটারের মধ্যে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ এক নারী নিহত হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে এক হামলাকারী নিহত হয়েছে।