রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ: বিএনপি

বিএনপি
বিএনপি

সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ার উলানবাটারে অনুষ্ঠিত এশিয়া-ইউরোপ (আসেম) সম্মেলন থেকে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক সম্মেলনে জাতিকে হতাশ করেছে।

সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দলের পক্ষে থেকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, গতকাল ভোট ও ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত সরকারের দেশে বিরাজমান সন্ত্রাস-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সম্পর্কিত যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

এ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ‘জাতীয় ঐক্য ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে’ এবং ‘যাদের সাথে ঐক্য প্রয়োজন, তাদের সাথে ইতোমধ্যে ঐক্য হয়ে গেছে’ বলে যে বক্তব্য রেখেছেন তা জাতিকে হতাশ করেছে।

সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, নির্লিপ্ততা এবং দায়িত্বহীনতা ও ভ্রান্ত নীতির কারণে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিএনপি শুরু থেকেই সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত না করে কোনো ঘটনা ঘটলেই তার দায় বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধীদলের ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছে।

অহেতুক বিরোধী দলের হাজার হাজার নিরপরাধ নেতাকর্মীদেরকে গ্রেপ্তার মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে প্রকৃত অপরাধীদের তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে। তাদের সেই ভ্রান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই আজ সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বিস্তৃত হয়েছে, সারাদেশে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং সমাজে অনাকাঙ্খিত অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার গুলাশানে একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও অঙ্গিকার থেকেই দেশের ভাবমূর্তি ও জনগণকে রক্ষার জন্যই দলমতের উর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি আরো বলেছিলেন কে ক্ষমতার থাকবে, কে ক্ষমতায় যাবে সেটা আজ বড় কথা নয়, আজ আমরা যারা আছি, আগামীতে তারা কেউ হয়তো থাকবো না। দেশ থাকবে, জাতি থাকবে, জনগণ থাকবে। কিন্তু আমাদের কিছুই থাকবে না, কোনো অর্জনই টিকবে না, যদি আমরা সন্ত্রাস দমন করতে না পারি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারি। তাই কালবিলম্ব না করে আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য ছিল সময়োপযোগী এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত। তার বক্তব্যে জন আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সকলের আশা ছিল-সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসবে। এখনও জাতি সেই আশায় আছে। কিন্তু গতকাল প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে জাতি হতাশ এবং ক্ষুদ্ধ। নির্বাচনের মাধ্যমে ৫ বার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর সমর্থনধন্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিভাবে জাতীয় ঐক্য সম্ভব ? কি করে সম্ভব অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলকে বাইরে রেখে জাতীয় ঐক্য গড়া? প্রধানমন্ত্রী যে ঐক্যের কথা বলেছেন তা সরকারে আসীন দলগুলোর এমনকি মহাজোটেরও ঐক্য নয়। আর বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে তিনি জাতীয় ঐক্যের কথা বলেন?

এরপরও আমরা আহ্বান জানাবো, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্লেম গেইম নয়, দেশের নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি, জননিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং জন আকাঙ্খা অনুধাবন করে দল-মত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে দেশ ও জাতিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে রক্ষা করুন।

গতকাল এই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গুলশান-শোলাকিয়ার ঘটনার বিষয়ে তারা আগেই অবগত ছিলেন। তাহলে প্রশ্ন-তিনি বা তার সরকার আগে থেকেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করেন নাই কেন ? এমন একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে উপযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে সরকারী ব্যর্থতার জন্য এতগুলো দেশি-বিদেশি মানুষ যে অকালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো-তার দায়ভার কে নেবে ?

আগেই তথ্য পাওয়ার পরেও যে সরকার এধরণের সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, সেই সরকারের সামর্থ্য ও আশ্বাসে জনগণ কতটা নির্ভর করতে পারে?

শুধু প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়েই যে এ’ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করা যায় না-গুলশান ও শোলাকিয়ায় তা আবার প্রমাণিত হয়েছে। এমন বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া শক্তিশালী গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই আহ্বান শুধু সময়োচিত নয়-বাস্তবতার নিরিখে অনিবার্য। কিন্তু ক্ষমতার মোহে বর্তমান সংকটের গুরুত্ব স্বীকার করতে চায় না। জনগণকে সাথে নিয়ে দ্রুত এই সংকট সফলভাবে মোকাবেলা করার প্রস্তাবের তাই বিরোধিতা করছে।

সরকারের এ দাম্ভিক অবস্থান দেশ ও জনগণের জন্য আরো বেশী ক্ষতির কারণ হতে পারে বলেই আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পূণরায় বলতে চাই-সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও কার্যকর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে সম্মত হোন। শুধু ক্ষমতাসীনদের ঐক্য সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমন করতে পারেনি-বরং তা বৃদ্ধি ও বিস্তৃত করেছে। শুধুমাত্র সকল দল মতের কার্যকর ঐক্য তা হ্রাস, সংকুচিত ও নিঃশেষ করতে পারবে।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ