রাজনীতি

জঙ্গিদের হত্যার ফলে শিকড় সন্ধান দুরহ: বিএনপি

নজরুল ইসলাম খান
নজরুল ইসলাম খান

বিএনপি বরাবরই বলে আসছে-জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে জঙ্গিবাদের উৎস বের করা হোক— জঙ্গিদের হত্যা করার ফলে তাদের শিকড় সন্ধান করা দুরহ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।

মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।

শুধু বিএনপিই নয়, দেশবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে জঙ্গি নির্মূলে সরকারের আন্তরিকতা নেই, যদি থাকতো তাহলে জঙ্গিদের হত্যা না করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উগ্রবাদের নাটের গুরুদের হদিস বের করতে সচেষ্ট হতেন।।

প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী-এমপি’রা বলছেন-জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির সখ্যতা আছে— তারা বলছেন-বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জঙ্গিদের সঙ্গে দলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে এটা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা আরো বলছেন-আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন উগ্রবাদ দমনে জঙ্গিদের হত্যা করছে তখন বিএনপি মায়াকান্না করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

বিএনপি বরাবরই বলে আসছে-জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে জঙ্গিবাদের উৎস বের করা হোক— জঙ্গিদের হত্যা করার ফলে তাদের শিকড় সন্ধান করা দুরহ হয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। শুধু বিএনপিই নয়, দেশবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে জঙ্গি নির্মূলে সরকারের আন্তরিকতা নেই, যদি থাকতো তাহলে জঙ্গিদের হত্যা না করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উগ্রবাদের নাটের গুরুদের হদিস বের করতে সচেষ্ট হতেন বলেন তিনি।

মূলত জঙ্গিবাদ দমনের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলগুলোকে অভিযুক্ত করতেই সরকার ও আওয়ামী নেতাদের অতি আগ্রহের কারণেই জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ আরো শক্তিশালী ও বেপরোয়া হতে পেরেছে। এসব থেকে প্রমাণ হয় যে, বিএনপি নয় বরং ক্ষমতাসীনরাই কৌশলে উগ্রবাদীদের নির্বিঘ্নতাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

‘হত্যার পর শেখ মুজিবর রহমানের চরিত্র হনণ করতে চেয়েছেন জিয়া’ মর্মে গতকাল প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। শেখ মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী নেতারাই ক্ষমতায় বসেছিলেন, আওয়ামী নেতারাই সংসদেও ছিলেন। কিন্তু তখন শেখ হাসিনা দেশে আসতে পারেননি। কিন্তু শহীদ জিয়ার আগ্রহ ও সম্মতিতেই তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেছেন এবং অবিলম্বে তাকে তাদের পরিবারের বাড়িঘর ও সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল। শহীদ জিয়া কখনো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সম্পর্কে কোনো অশালীন কিংবা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন-এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। বরঞ্চ আজ যারা সরকারের মন্ত্রী তাদের অনেকেই শেখ মুজিবর রহমান সম্পর্কে নানা কটূক্তি করেছেন এবং তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই ‘৭৫ এর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দেয়ার অভিযোগ আছে। কাজেই শহীদ জিয়া বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হনণ করেছেন এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বরং শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ নেতারা ক্রমাগত মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ করে শহীদ জিয়ার চরিত্র হনণের ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।……………………….. জানান নজরুল ইসলাম।

বর্তমান সরকার বিরোধী দলের ওপরই অগণতান্ত্রিক ও বেআইনী দমন নীতি প্রয়োগ করে যাচ্ছে— জঙ্গিবাদ দমনের নামে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক দিনে বিএনপির প্রায় ২৫০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে এবং ক্রসফায়ারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি যেহেতু বিরোধীদলের দিকে সেহেতু উগ্রবাদীরা নির্বিঘ্নে তাদের সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে মন্তব্য করেন তিনি।

আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই - নিষ্ঠুর ও বর্বর উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীকে নির্মূল এবং তাদের বিষ দাঁত ভেঙে দিতে হলে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আর এই জরুরি কাজটি সরকারকেই করতে হবে। আর তা না করে সরকার যদি এই মানবতাবিরোধী উগ্রবাদীদের নিয়ে রাজনৈতিক ফাঁয়দা হাসিলের খেলা খেলতে থাকেন, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান নজরুল।

জঙ্গিবাদ দমনে ব্যর্থতা এবং একের পর এক উগ্রবাদীদের নৃশংস হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। তারা বাংলাদেশে বসবাস ও ভ্রমণে এখন ভীত সন্ত্রস্ত। বিদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশে ফিরতে অনীহা প্রকাশ করছেন এবং বাংলাদেশ থেকে বিদেশি কুটনীতিকদের পরিবারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর তথ্য পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সভা-সমাবেশ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের বাংলাদেশ ভ্রমণ একের পর এক বাতিল কিংবা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগও চরমভাবে বাধাগ্রস্ত। রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতি অবসানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আহ্বান অনুযায়ী জাতীয় ঐক্য গড়ে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

দেশে ভয়াবহ বন্যা— বানভাসী মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশা লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান নয় এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়-নিন্দনীয়।

ত্রাণসামগ্রীর অভাবে বন্যার্ত মানুষ দুঃসহ জীবন যাপন করছেন— বন্যার্ত জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের যে আহ্বান জানিয়েছি তার ভিত্তিতে তারা সীমিত সামর্থ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয় বলেই আমরা আকস্মিক এ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যূৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এক বিরাট এলাকার কৃষি জমি, পশু ও মৎস্য সম্পদ এবং নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে জনজীবনে ও জাতীয় অর্থনীতিতে দারুণ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে জেনেও তা বাস্তবায়নে সরকারের একগুঁয়েমি এবং এই জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মিছিলে হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ