বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটি থেকে পদবঞ্চিতদের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করা পরামর্শ দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।
এ মুহূর্তে কোনো প্রশ্নই ওঠে না কারণ কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে—এ কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো ব্যক্তি বা কেউ যদি মনে করেন, আমি বঞ্চিত হয়েছি, তাহলে তার উচিৎ হবে অপেক্ষা করা পরবর্তী কাউন্সিলের জন্য।
সোমবার প্রথমবারের মতো দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে ‘অনেক যোগ্যপ লোকের পদ না পাওয়ার কথা’ স্বীকার করেন তিনি।
নতুন কমিটি নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলে দল খালেদা জিয়াকে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেছেন। এ কমিটি নিয়েই বিএনপি আগামী তিন বছর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলের যখন একটা কমিটি করা হয়, তখন দেখা যাবে সেখানে কিছু সংখ্যক যোগ্য মানুষও পদবঞ্চিত হচ্ছেন। এটা স্বাভাবিক যে, এতো যোগ্য লোকের সংখ্যা থাকে, সবাইকে অ্যা কোমোডেট করা সম্ভব হয় না। সেই দিক থেকে বিএনপিতে স্বাভাবিকভাবে সবাইকে অ্যা কোমোডেট করা সম্ভব হয় নাই আমাদের চেয়ারপারসনের পক্ষে।
গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ৭৩ সদস্যোর উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ৫০২ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন তিনি।
তার পরপরই বিএনপির উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম পদত্যাছগের ঘোষণা দেন। আরো অনেক নেতা নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে গণমাধ্যটমে।
মির্জা ফখরুল সেদিন নতুন কমিটিকে ‘ভাইব্রেন্ট ও ডায়নামিক’ অভিহিত করলেও বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যি ওবায়দুল কাদের পরদিন ‘জাম্বো সাইজের’ এই কমিটিকে ‘তামাশা’ আখ্যা্য়িত করেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপি কার্যালয়ে আসেন মহাসচিব। তাকে স্বাগত জানান দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও মুনির হোসেন নতুন নেতারা। পরে নতুন নেতারা মহাসচিবের সঙ্গে তার চেম্বারে কুশল বিনিময় করেন।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে, কমিটিতে বাদপড়া যোগ্যকর্মীদের দলে সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সদ্য ঘোষিত স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বড় আকাড়ের কমিটি হওয়ার বিষয়টকে স্বাভাবিক ব্যাপার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের পরিসর ও কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলেই এমনটা হয়েছে।