রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির অবস্থান এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বাম দলগুলোর নেতারা।
তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যরাও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে বিএনপি নেত্রীর সংবাদ সম্মেলনকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেই দেখছেন।
এজন্য আন্দোলনে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তারা আর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সরকারের অনড় অবস্থানেরও সমালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার দেশ টিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তারা।
সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আন্দোলন করে আসছে তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। এরসঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশের বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও।
বুধবার সংবাদ সম্মেলনে হঠাৎ করেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এটিকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে এ প্রকল্প বন্ধের দাবি জানান তিনি।
রামপালে প্রকল্পের ব্যাপারে বিএনপির প্রতিবাদকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে না বাম রাজতৈক দলগুলো।
তবে জাতীয় স্বার্থে না রাজনৈতিক স্বার্থে বিএনপির এ বিরোধিতা- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমরেড খালেকুজ্জামান ও এমএম আকাশ
কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন বুদ্ধিজীবী এবং এ বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের আমরা সাড়া পেয়েছি। কিন্তু ওই সময় বিএনপির কোনো সাড়া বা বক্তব্য পায়নি। তবে এখন তারা এসে বলছে।’
এমএম আকাশ বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের মূল এজেন্ডা অন্য— তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চায়, সরকারকে উৎখাত করতে চায় এবং তারা ভারত বিরোধী। আমাদের এজেন্ডা কোনো ভারত বিরোধী এজেন্ডা নয়, সরকার উৎখাতের এজেন্ডাও নয় এবং গণতন্ত্র প্রসঙ্গেও আমরা কিছু বলছি না, আমাদের এজেন্ডা সুন্দরবন রক্ষা করা। সুতরাং তাদের অবস্থান আর আমাদের অবস্থান আলাদা।’
আর এই ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানকে তেল গ্যাস বন্দর রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীতের রেকর্ড যা বলে তাতে জাতীয় কমিটির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করার কোনো সুযোগ নেই। যদি সে মনে করে তাদের অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করে করবে, জনগণ যাচাই করবে তারা কি উদ্দেশ্যে এই অবস্থান নিল।’
এদিকে, রামপাল ইস্যুতে সরকারের অনড় অবস্থানে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তেল গ্যাস বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিনিধি এম এম আকাশ।