আদালত অবমাননা করে শপথ ভঙ্গের দায়ে উচ্চ আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু আইনি বিবেচনায়ই নয়; নৈতিক কারণেও এই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মন্তব্যের কারনে আদালত অবমাননা হয়েছে— এ মর্মে ৬ মাস আগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হককে।
তখন তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আর অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সম্প্রতি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তাতে বলা হয়েছে, আদালত নিয়ে মন্তব্য করে অবমাননার দায়ে সংবিধান রক্ষার শপথ ভেঙ্গেছেন এ দুই মন্ত্রী।
আদালতের এ রায়ের পর সাজাপ্রাপ্ত দুই মন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকা নিয়ে সোমবার প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। সেইসঙ্গে তাদের মন্ত্রিসভা এবং সংসদ থেকেও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে দলটি।
উচ্চ আদালতের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতেই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ বলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন দলের জ্যেষ্ট নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
এছাড়াও পুলিশি অনুমতি থাকার পরও রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলকে আলোচনা সভা করতে দেয়া হয়নি অভিযোগ করে এর সমালোচনা করেন মওদুদ।
জাতীয় প্রেসক্লাবে আরেক সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে নয়; ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে সরকার।
এদিকে, রাজধানীর নয়াপল্টনে মহড়া দিতে গিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপরি নেতাকর্মীদের হাতে মার খেলো আসল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয় কমপক্ষে ২ জন।
বিএনপরি নয়া পল্টনের কার্যালয়ের সামনে মহড়া দেয়ার কথা ছিলো কামরুল হাসান নাসিমের নেতৃত্বাধীন আসল বিএনপির। এ লক্ষ্যে তারা বিএনপরি কার্যালয়ের সামনে যাচ্ছিলেন। জোনাকি সিনেমা হলের সামনে এলে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় আসল বিএনপির দুই কর্মী আহত হন।