চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পারস্পারিক সম্পর্ক ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেল চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অবগত করেন।
তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় স্থাপিত হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে অভূতপূর্ব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
চীন সব সময় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু— খালেদা জিয়া আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যক্রম, বিশেষ করে উন্নয়নকাজে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং পাশে থাকবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, চীন আশা করে, ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা পালন করছে বিশেষ করে উন্নয়ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাকে সমর্থন করবে।
এর আগে দুপুরে এক বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে বাংলাদেশ সফরের জন্য স্বাগত জানান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, বিএনপি এবং বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বাস করে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত নিবিড়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পর বাংলাদেশের জনগণ চীনের অব্যাহত সহযোগিতার কথা স্মরণ করে। সি চিন পিংয়ের এই সফর নিঃসন্দেহে চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।
বৈঠকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ, রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন, নজরুল ইসলাম খান ও জেনারেল মাহবুবুর রহমান।
এর আগে সেখানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
পিং এর সফর সূচি:
শুক্রবার বিকেলে হোটেল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান চীনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২৬টিরও বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শি চিন পিং বঙ্গভবনে বৈঠক করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে। এ সময় তার সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে যোগ দেন তিনি।
শনিবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। পরে ভারতে উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।