রাজনীতি

তৃণমূল মানুষের অধিকারের কথা বলে আ'লীগ: শেখ হাসিনা

চলছে আ’ লীগের সম্মেলন

শেখ হাসিনা
শেখ হাসিনা

তৃণমূল মানুষের অধিকার আদায়ের কথা বলে আওয়ামী লীগ, জনগণের শোষণ মুক্তির পথ দেখায় আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠতায় আপোষ করেনি আওয়ামী লীগ বলে জানান দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি আওয়ামী লীগের শাসনকালে উন্নতির কথা তুলে ধরেন।

শত বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে-কাউন্সিলের উদ্বোধনী ভাষণে দলের সভানেত্রী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

এ সময় আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও, দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজ দলের ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে তার সরকার।

দেশের মাটিকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলেও আবারো হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

‘আগামী ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বের উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। সেকারণে আমরা ঘোষণা দিয়েছি, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সন্ত্রাসকে কখনোই প্রশ্রয় দিব না এর বিরুদ্ধে আমরা সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং নিয়ে যাবো। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মাটি, এদেশের ভূখণ্ড কোনো সন্ত্রাসী ব্যবহার করতে পারবে না, বা কোনো প্রতিবেশি দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’

ভাষণের শুরুতে দল গঠনে সবার প্রতিকৃজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর সকালে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিন ব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

শনিবার সকাল ১০টার পরে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আওয়ামী লীগের নেতা ও বিদেশি বন্ধুরা বক্তব্য দিচ্ছেন।

'শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের জাঁকজমকপূর্ণ ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন।

এদিকে, সম্মেলন স্থলকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন দলের ধানমণ্ডি কার্যালয় আর সম্মেলন ভেন্যু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নেতাকর্মীদের পদচারনায় মুখর।

আওয়ামী লীগের ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সমসংখ্যক ডেলিগেটও সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা ভিআইপি মর্যাদায় সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি সম্মেলনে আছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

নতুন নেতা নির্বাচন: আগামীকাল রোববার সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। প্রায় সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এবারও শেখ হাসিনা স্বপদে বহাল থাকবেন। তিনি অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এটা মানতে নারাজ। এ কারণে এবারও তাকে অষ্টমবারের মতো দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি এর আগে ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ এবং ২০১২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।

সংগঠনের ইতিহাস:

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে আসা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে ১৯৫৩, ১৯৫৫, ১৯৫৭, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ ও ২০১২ সালে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, সাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমেদ, আলী আমজাদ খান অ্যাডভোকেট, আবদুস সালাম খান অ্যাডভোকেটকে সহসভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক ও ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চারবার, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চারবার, মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার, এএইচএম কামারুজ্জামান, মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একবার করে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) চেয়ারম্যান ছিলেন। জিল্লুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মনি ও আবদুর রাজ্জাক ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু পাঁচ বার, জিল্লুর রহমান চার বার, তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তিন বার, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাক দুই বার এবং শামসুল হক ও আবদুল জলিল একবার করে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ