আজকে আওয়ামী লীগ যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশাল— এ দলকে ধ্বংসের জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যায়নি কোনোদিন যাবেও না বলে মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগের সন্তান, আওয়ামী লীগের ঘরে আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায় আমারও হৃদয়ে ব্যথা লাগে। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী যখন ব্যথা পায়, আমিও তখন ব্যথা পাই।'
শনিবার সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হওয়া আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়। হাজারো শহীদের রক্ত, জাতির পিতার রক্ত, চার নেতার রক্ত, হাজার হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগে গড়া এই দল, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যে অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল সেই অনুভূতির নামই আওয়ামী লীগ। এই আওয়ামী লীগ দেশ স্বাধীন করেছে, ভাষার জন্য আন্দোলন করেছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে।'
তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দল আছে— কিন্তু যে আত্মত্যাগ আওয়ামী লীগ করেছে তা পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তুলনা হয় না।
তিনি আরো বলেন, আমি দু'বার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি— আওয়ামী লীগের মধ্যে ভাঙন ধরেনি আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, 'আজকের এই সম্মেলন একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আসুন আমরা আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করি।'
এই বক্তব্যল দেয়ার আগে তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে, এটা পড়তে অনেক সময় লাগবে। তাই আপনাদের অনুরোধ করব যাওয়ার সময় এটা আপনারা নিয়ে যাবেন।
লিখিত বক্তব্যে আশরাফ দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে জনগণকে আস্থায় নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও দলের চেয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য নিয়ে দলীয় সকল স্তরের কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতে হবে। দলীয় ঐক্য ও সংহতিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। কারও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডে দল যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
আজকে এমন একটি দিনে কাউন্সিল হচ্ছে যখন দেশ নিয়ে আবার নতুন করে শুরু হয়েছে ষড়যন্ত্র— উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর মাধ্যমে জনমনে ভীতির সঞ্চার করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে এ অশুভ শক্তি। চক্রান্ত চলছে একটি অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনার, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাউন্সিল আয়োজনে কোনো ক্রটি-বিচ্যুতি থাকলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি দুঃখও প্রকাশ করছি।
এ সময় তিনি বলেন, আগামীতে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে সেজন্য এই কাউন্সিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি- এদেশে গণতন্ত্র থাকবে না কি অনির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করবে? এদেশে কি আবার উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিচরণ ভূমি হবে না কি উদার গণতান্ত্রিক দেশ হবে? এদেশে কি আবার বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হবে না কি আইনের শাসন চলবে? এদেশ কি সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিধস্ত দেশে পরিণত হবে না কি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাবে?”
সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলণের পর পায়রা উড়িয়ে ২০তম সম্মেলন উদ্বোধন করেন।