মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সমস্ত প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী বাম বিকল্প গড়ার আহ্বান জানিয়ে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির একাদশ কংগ্রেস।
রাজধানীতে ৪ দিনের এই কংগ্রেসে ভারত, পাকিস্তান, চীন, যুক্তরাজ্য, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়াসহ ১২টি দেশের ২৬ জন প্রতিনিধি যোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশের প্রধানতম বাম দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ৪ দিনের একাদশতম কংগ্রেস শুরু হয়েছে।
'সাম্প্রদায়িতা, সাম্রাজ্যবাদ, লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা নিপাত যাক' এই শ্লোগানে শুরু হয়েছে সিপিবির ১১তম কংগ্রেস।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সভাপতি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ পতাকা উত্তোলন ও নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য দিয়ে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এরপর মঞ্চে গীতিআলেখ্য 'দিন বদলের পালা' পরিবেশন করে উদীচী।
এরপর কংগ্রেসের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে দলের নেতারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন বৈষম্য আর দুর্নীতির চিত্র।
তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তির ঐক্যের ভিত্তিতে শক্তিশালী বাম বিকল্প গড়ে তোলাই এ কংগ্রেসের মূল আহ্বান।
চার দিনের সম্মেলনে প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দলের নেতাকর্মীরা এসে উপস্থিত হয়েছেন উদ্যানে। দুপুরে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় ও দলের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সূচনা হয়। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনের পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশি তল্লাশি ছাড়াও আর্চওয়ে পার হয়ে নেতা-কর্মীদের সম্মেলনস্থলে আসতে হয়েছে। ভারত, নেপাল, চীন, কোরিয়া, রাশায়াসহ ১২টি দেশের কমিউনিস্ট পার্টির ২৬ জন প্রতিনিধি কংগ্রেসে যোগ দিযেছেন।
কংগ্রেস নিয়ে বিশেষজ্ঞদেরর মতামত:
বামপন্থি রাজনীতির সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক-সামাজিক নানা ইস্যুতে দলগুলোকে সোচ্চার হতে দেখা গেলেও জনপ্রত্যাশা পূরণ কিংবা ভোটের রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আর নেই।
তাদের মত, রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকতে হলে জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে তাদের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করতে হবে।
"সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, লুটপাটতন্ত্র, গণতন্ত্রহীনতা নিপাত যাক" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে সিপিবি'র একাদশতম কংগ্রেস।
সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও আওয়ামী লীগ-বিএনপি কেন্দ্রীক দ্বি-দলীয় মেরুকরণের বাইরে বাম-গণতান্ত্রিক বিকল্প বলয় গড়ার বিষয়টি কংগ্রেসে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দলের নেতারা জানান।
তবে বাম এই রাজনৈতিক দলটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে দেশের বিশিষ্টজনরা বলেন ভিন্ন কথা।
চলমান পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দলটি তেমন জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে মনে করেন ড. আনোয়ার হোসেন।
সিপিবিকে একটি লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে থাকার পরামর্শ দিন কেউ কেউ।
জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরো বাড়ানো দরকার বলেও মনে করেন অধ্যাপক আবুল কাশেম মো. ফজলুল হক।
তবে, সামাজিক ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে দলটির সোচ্চার ভূমিকার প্রশংসা করেন অধ্যাপক আমেনা মোহসিন।
এ কংগ্রেসে আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলটির সুনির্দিষ্ট বক্তব্য থাকবে বলেও তিনি মনে করছেন।