ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়ি ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের বহিষ্কারই প্রমাণ করে ঘটনা কারা ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শনিবার সকালে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
দাবি জানান দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের দায়ী করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। সরকার জনগণকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে সরকারের পদত্যাগও কথা বলেন হাফিজ।
গতকাল শুক্রবার হাফিজের নেতৃত্বে নাসির নগরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিল বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে ফিরে আজ সংবাদ সম্মেলন করে দলটি।
হাফিজ বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচিত না হলেও তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই যে, নাসিরনগরের ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছেন— তাদের দলীয় নেতাদের শাস্তি দিয়ে তাদের স্বরূপ জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছেন।
এ ঘটনায় হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনরে দাবি জানান তিনি।
নাসির নগরে প্রথম হামলার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত বলা যেতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে ৬টি বাড়িতে নতুন করে আগুন দেওয়া হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, হামলা হয়েছে একটার দিকে আর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে বিকেল ৫টার দিকে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত—এ কথা উল্লেখ করে তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তৎপরের পাশাপাশি সম্প্রীতি বজায়ে রাখার আহ্বান জানান।
নাসিরনগর সদরের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আরও দুজন আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে কারা এই ধরনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মূল হোতা। গত সাত বছরে যে সব ঘটনা ঘটেছে তাতে আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ২৮ অক্টোবার শুক্রবার নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের জগন্নাথ দাসের ছেলে রসরাজ দাসের ফেসবুক পাতায় 'ইসলামের অবমাননাকর' একটি পোস্ট পাওয়া যায়, যা জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ওই দিনই রসরাজের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। পরদিন পুলিশ তাকে আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নাসিরনগরে ১৫টি মন্দিরসহ হিন্দুদের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এর পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এদিকে, নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।
তারা হলেন: সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া।
ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।
দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল: