নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন-ইসি পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
ইসি গঠন নিয়ে ৭ দফা ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ১৩ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন খালেদা জিয়া।
একইসঙ্গে সব দলের ঐক্যের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের খুঁজে বের করতে পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠনের কথাও বলেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
গত কয়েক বছরে ইসি দেশের মানুষের মাঝে অনাস্থা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়। নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন সময়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। দুই রাজনৈতিক জোটের দুই মূল প্রতিনিধি, সহায়তাকারী আরো দুজন প্রতিনিধি বৈঠকে থাকবেন। এ ছাড়া মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে বৈঠক করতে হবে। স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন ছাড়া বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।
এছাড়া সংখ্যালঘু হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়সহ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন খালেদা জিয়া।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হবে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে এখনো কোনো আইন নেই। সংবিধানে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান নিজ উদ্যোগে একটি ‘সার্চ কমিটি’র মাধ্যমে বর্তমান কমিশন গঠন করেছিলেন। বর্তমান কমিশনের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে এখন আবার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি সবার সঙ্গে আলোচনা করে ‘গ্রহণযোগ্য’ একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সরকার এ বিষয়ে এখনো নেতিবাচক।
গতকাল রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
তিনি নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সার্চ কমিটি করা, বিতর্কমুক্তদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ এবং ভোটগ্রহণ, গণনাসহ নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু করার প্রস্তাব। তবে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কোনো ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করেননি। তবে কমিশনারদের একটি যোগ্যতার মাপকাঠি তুলে ধরেন।
অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি এবং নির্বাচনকালীন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে আলোকপাত করেন খালেদা জিয়া। ১২ পৃষ্ঠারও ওই প্রস্তাবের মূল কথা হচ্ছে, সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা এবং ন্যায়পরায়ণ, বিতর্কমুক্ত, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠন করা।
কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বর্তমান কমিশন গঠনের আগে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান নিজ উদ্যোগে সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। বিএনপি চায় এবারও রাষ্ট্রপতি সে ধরনের উদ্যোগ নেবেন এবং সব কটি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই সার্চ কমিটি গঠন করবেন। বিএনপির চেয়ারপারসন এই প্রস্তাব করবেন।