সংসদের বাইরে থাকা কোনো দলের নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই বলে অভিমত দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
রোববার রাজধানীর গুলশানে একটি কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টির এক অনুষ্ঠানে এ তিনি বলেন।
আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে ‘অর্থহীন উল্লেখ করে এ নির্বাচন না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ নির্বাচন অর্থহীন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৪৫ জন লোক মারা গেছেন—এ কথা জানিয়ে এরশাদ বলেন হত্যা, হানাহানি এবং অস্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে না গেলেও ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে জাপা জানান তিনি।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে কীভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিৎ, সে বিষয়ে নিজের মতামতও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এরশাদ বলেন, যারা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি বিধিসম্মত, বাস্তবসম্মত নির্বাচন কমিশন গঠন করা হোক যারা সংসদের বাইরে আছে, তাদের কথা বলার কোনো অধিকার নাই।
গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তার প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সেখানে ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের’ মতৈক্যেের ভিত্তিতে নতুন ইসি গঠন করতে হবে।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। নতুন যে ইসি দায়িত্ব নেবে, তার অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে।
বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুর রহমানের জাতীয় পার্টিতে যোগদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফিরে দেখা জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কিছ তথ্য:
অথচ প্রায় তিন দশক আগে এরশাদ সরকারের অধীনে প্রথম জেলা পরিষদ আইন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৮৮ সালে এইচ এম এরশাদের সরকার যে আইন করেছিলেন, সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ দেয়ার বিধান ছিল, পরে ওই আইন অকার্যকর হয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে তিন পার্বত্য জেলায় একবারই সরাসরি নির্বাচন হয়। আর কোনো জেলা পরিষদে কখনো ভোট হয়নি। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের জন্য নতুন আইন করে। পরের বছর ৬১ জেলায় আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়।
অনির্বাচিত ওই প্রশাসকদের মেয়াদ শেষে আগামী ২৮ ডিসেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো ৬১ জেলায় চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে দলীয় মনোনয়নের সুযোগ রাখা হয়নি।
সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচন হলেও জেলা পরিষদ আইনে প্রত্যক্ষ ভোটের বিধান নেই। প্রতিটি জেলায় স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ভোটেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন।
নির্বাচনের এ পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলে বিএনপি জানিয়েছে, সরাসরি ভোটে না হয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যাসন নির্বাচন সংবিধান পরিপন্থি।
গত ১৭ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।