বর্তমান নির্বাচন কমিশনের- ইসি অধীনে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন নাসিকে "শেষ টেস্ট কেস" হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা।
তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জ হলো গডফাদারের শহর; তাই সিটি নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে এ নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন।
নারায়নগঞ্জ সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর রাজধানীতে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫২তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।
ওই অনুষ্ঠানে আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির প্রস্তাব নিয়ে দেয়া তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আরেক আলোচনায় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে এই কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পারবে কি-না- এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মনোনয়ন পেয়ে সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনে নিরপেক্ষ লোকদের নিয়োগের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আর সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।
আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। আওয়ামী লীগ বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভিকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে আগেই। মঙ্গলবার বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সকালে পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীও। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি জানান, দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেই নির্বাচনে অংশ নেবেন তিনি। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে, সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার।
এটি নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় নির্বাচন এবং দলীয়ভাবে এখানে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রার্থী দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।