নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানের অভিযোগ বিবেচনা করে ভোট গণনা এবং ফলাফল খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, বাহ্যিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের বাতাবরণ সৃষ্টি করে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে—এতে সত্যিকার অর্থে গণরায়ের প্রতিফলন ঘটলে আমরা সেটিকে শুভেচ্ছা জানাই। তবে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কারচুপির অভিযোগকে উড়িয় দেয়া যায় না।
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, আইভী (নৌকা) পেয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাখাওয়াতের (ধানের শীষ) পেয়েছে ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট।
রিজভী বলেন, তিনি (সাখাওয়াত) বলেন, একটি কেন্দ্রের ভোটার এক হাজার। অথচ ফলাফল ঘোষণায় বলা হয়েছে, নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৮০০। ধানের শীষের প্রার্থী ৫০০। বিষয়টি গোচরে আনা হলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ফল পাল্টে দিয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রভিত্তিক প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সই করা লিখিত ফলাফল প্রত্যেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের দেয়ার কথা। কিন্তু ১৭৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সই করা ফল বিএনপির পোলিং এজেন্টদের সরবরাহ করা হয়নি।
রিজভী অভিযোগ করেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই এই নির্বাচন সম্পর্কে বলে আসছি জনরায়কে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না। ৭২ ঘণ্টার আগে থেকে ‘বহিরাগতদের’ ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল নজিরবিহীন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যাওয়া বানচাল করতে এটা করা হয়েছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজিরবিহীন নিরাপত্তা বিধানের আড়ালে রাতের অন্ধকারে কী ভূমিকা রেখেছে তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে, কারণ ভোট সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম তাদের হেফাজতে থাকে। ফলে ভোট জালিয়াতির শঙ্কা থাকে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করলে কেউ অনিয়ম করার সাহস পেত না। এসব কারণে নির্বাচনের মাঠ সমতল হয়নি। সুতরাং নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন স্মরণীয় হতে পারল না।