সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া সুপ্রিম কোর্টের এ রায় জনগণের বিজয় উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী বলেন, বিচার ব্যবস্থার উপর সরকার যে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিল সে অপচেষ্টা ভেস্তে গেছে।
সোমবার দুপুরে পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, জাতীয় সংসদ উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করলে তা দলীয় কতৃত্বেরই প্রতিফলন হতো।
আর এতে ন্যয়বিচার ক্ষুণ্ণ হতো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া রায় ন্যয় বিচার নিশ্চিত করেছে।
এর ফলে জনগণ আদালতের প্রতি আরো আত্মবিশ্বাসী হবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রয়েছে। এ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ রায় দেয়।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ হয়েছে। এর ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে না। আগের মতোই বিচার বিভাগই বিষয়টি দেখবে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) এম আমীর-উল ইসলাম, এ এফ হাসান আরিফ, আজমালুল হোসেন কিউসি, এ জে মোহাম্মদ আলী।
ষোড়শ সংশোধনী সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রসঙ্গত: বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর চলতি বছরের ৮ মে শুনানি শুরু হয় যা ১ জুন শেষ হয়।
এর আগে গত ৭ মার্চ আপিল বিভাগ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাস কিউরি (আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে নিয়োগ দেন, যাদের মধ্যে ১০ জন আদালতে মতামত উপস্থাপন করেন। তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, আবদুল ওয়াদুদ ভুইয়া, ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, এ জে মোহাম্মদ আলী ও এম আই ফারুকী ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে মত দেন। অপর অ্যামিকাস কিউরি আজমালুল হোসেন কিউসি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর দুই জন মত উপস্থাপন করেননি।