প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে পদত্যাগ ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করতেই সরকার নাটক সাজিয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার দুপুরে দলের রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরো বলেন, প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে সরকারি নাটক শেষই হচ্ছে না।
জোর করে সন্ত্রাসী কায়দায় জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পর এখন চূড়ান্ত পদক্ষেপ পদত্যাগ করাতেই হঠাৎ এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে করে না বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এটা একেবারে সুস্পষ্ট যে, তাকে ঘায়েল করার জন্য তার বিরুদ্ধে বিবৃতি, তার বক্তব্য, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে তার পর্যবেক্ষণে সরকার নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছে বলেই এ বানোয়াট আক্রমণ শুরু করেছে একের পর এক।
প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচারসহ ১১টি অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাওয়ার পর অভিযোগ দাখিলের বিষয়টিও সন্দেহ জনক বলে দাবি করেন তিনি।
তাকে চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ করাতেই এই নাটক—রাষ্ট্রপতি যদি এত অভিযোগ প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে পেয়ে থাকে তবে আইন অনুযায়ী কেন আগেই ব্যবস্থা নিলেন না বলে প্রশ্ন তোলেন রিজভী?
রিজভী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে- প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিকে ডেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি বৈঠক করেছেন এবং তাদের বুঝিয়েছেন। দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও বলছেন যে, এটা সংবিধানে নেই। প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে অন্য বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করে রাষ্ট্রপতিও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এত অভিযোগই থাকে তাহলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করলেন না কেন- এই প্রশ্ন এখন আইন অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে।