রাজনীতি

চেয়ারপারসনের সাজা সরকারের আগে থেকে ঠিক করা: ফখরুল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার বিষয়টি সরকার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ফখরুল বলেন, আগে থেকেই রায় ঠিক করা থাকলে এ বিচার নিয়ে প্রহসনের কোনো দরকার ছিল না।

আজ-বৃহস্পতিবার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছে আদালত। একই আদালতে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি চলছে।

গত ২০১৪ সালের মতো এবারও সরকার নতুন করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে একতরফা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম ও ক্রসফায়ার অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেন দলের মহাসচিব।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দেয়া মামলার রায় কি হবে তা আগে থেকে যারা বলে বেড়াচ্ছেন- এটা কি আদালত অবমাননা না-এমন প্রশ্ন তুলেন মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যিনি সরকারের বিশেষ দূত- হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে, তাহলে দেশনেত্রীর মামলার রায় কি পূর্ব নির্ধারিত? এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছে তাহলে এই বিচারের প্রহসনের তো কোনো প্রয়োজন ছিল না’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে যে আইনের শাসন নেই, ন্যায়বিচার সূদূর পরাহত সেটাই প্রমাণিত হচ্ছে। বিচার হবে- প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই। এখন পর্যন্ত তার (এরশাদ) এই বক্তব্য যে আদালত অবমাননার সামিল, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।’

ফখরুল বলেন, ‘সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান, তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে দুইটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সপ্তাহে তিনদিন দেশনেত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নজিরবিহীন নির্যাতন, তারিখে তারিখে জামিন দেয়ার নজিরবিহীন আদেশ- সমগ্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’

তিনি আরো বলেন, এটা এখন স্পষ্ট- নজিরবিহীন দ্রুততার সাথে মামলা শেষ করার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে এই সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায়। ভয় পায় বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এহেন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বিএনপি চেয়ারপারসনকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার তাকে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার একটি পরিসংখ্যানও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

ফখরুল বলেন, ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার ৭৪টি। আসামির সংখ্যা ১১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৯ জন আর খুন হয়েছেন ৭৭৩ জন।

গতবছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে এ বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের সাত বিভাগে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল।

সেখানে দেখা গেছে, একমাস দুই দিনে মোট মামলা হয়েছে ৫২৮টি, আসামির সংখ্যা ২৪ হাজার ৭০৭ জন। গ্রেপ্তার ১৫১৯, গুম একজন, খুন একজন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের সমান্তরাল মাঠ হতে পারে না। সুতরাং নির্বাচন করতে হলে, অবশ্যই মাঠকে সমান্তরাল করতে হলে বিরোধীদলের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে গ্রেপ্তার, ক্রসফায়ার, হত্যা-গুম বন্ধ করে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

অজ্ঞাতনামা আসামির নাম দিয়ে পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ