বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
দেশ এখন গণতন্ত্রহীন আর হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণআন্দোলন চলবে--এ কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখেছে।
গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপির এ মহাসচিব গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নিজেদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ের কথাও জানান তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির মহাসচিব বলেন, এদিনে আমরা বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল ও দলের চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। আজকে এমন এক সময় এ দিবস আমাদের পালন করতে হচ্ছে, যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখ, কষ্ট ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দিনটি পালন করছি।
তিনি আরো বলেন, সমস্ত রীতিনীতি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।
একুশের গুরুত্ব তুলে ধরে ফখরুল বলেন, এদিনে শুরু হয়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল ভিত্তি, সমগ্র জাতি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ছিল।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত দলীয়করণ করা হয়েছে। খালেদা জিয়া চিরকাল গণতন্ত্রের সংগ্রাম করেছেন, লড়াই করেছেন তাকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে দিন যাপন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র ও দেশনেত্রীকে মুক্ত করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন গড়ে তুলব এবং যে সরকার জগদ্দল পাথরের মতো বসে আছে, তাদের সরিয়ে ও পরাজিত করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
এর আগে ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান দলের নেতাকর্মীরা।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর আনুষ্ঠানিকতা দলের পক্ষ থেকে আগেই বাতিল করা হয়েছে। তবে দলের নেতা-কর্মীরা একুশের প্রভাত ফেরিতে যাবেন বলে জানানো হয়েছিল।