আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন—নির্বাচনের বছরের শুরুতেই দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়ে কারাভোগ করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
দলীয় প্রধানকে ছাড়া নির্বাচনে যাবে না- বিএনপি এমন হুঁশিয়ারি দিলেও সরকারের বাইরে থাকা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। তবে বিএনপি নেত্রীর কারাবরণ রাজনীতির মাঠে অশনিসংকেত বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।
সংকট নিরসনে সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা সবার।
সিলেট হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরানের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছিলেন।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা ও কারাভোগের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সাজা হওয়ায় খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা কিংবা তাকে ছাড়া বিএনপি আদৌ নির্বাচনে যাবে কিনা সে প্রশ্নও জনমনে।
এসব প্রশ্নের সঙ্গে কোনো কোনো রাজনীতিক একমত। আবার কেউ বলছেন ভিন্ন কথা— এক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি বলছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। একটি দলের জন্য নির্বাচন বসে থাকবে না বলে অভিমত তার।
নাগরিক ঐক্যের আহহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলছেন, দুর্নীতির দায়ে সাজা দিয়ে জনগণের কাছে খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে ছাড়া নির্বাচন করা সহজ হবে না।
আবার বাম নেতাদের কারো কারো আশঙ্কা, বিএনপি নেত্রী কারাবন্দী থাকায় দেশের রাজনীতি সংকটের দিকে যাচ্ছে। সংকট নিরসন করে নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই রাজনৈতিক জোটের বিকল্প জোট করার ওপর জোর দিলেন তিনি।
তবে সংঘাত নয়, আলোচনার পথ ধরেই সমস্যার সমাধান চান সবাই। এক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বই বেশি বলে তারা মনে করেন।