বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে দেশ দুঃশাসনের করাল গ্রাসে পরিণত হয়েছে—এ অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কালো পতাকা প্রদর্শনের সময় নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব বলেন, নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিপেটা করেছে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ও অনেককে ধরে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানান।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা তো রাস্তায় নামেননি— তারা ১৪৪ ধারাও ভঙ্গ করেননি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা করবে কেন?
‘ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কালো পতাকা প্রদর্শন করতে পারব না কেন? এটা তো আমার মৌলিক অধিকার তাহলে কি ঘরের মধ্যে কথা বলতেও পুলিশের অনুমতি লাগবে?’ বলেন ফখরুল।
সরকার উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে ও সংঘাতপূর্ণ করতে চাইছে—এ কথা উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে সরকার যে ধরনের আচরণ করছে, তাতে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী থাকবে।
ফখরুল বলেন, সরকার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেয়ার কথা বললেও কালো পতাকা প্রদর্শনের মতো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তারা প্রমাণ করেছে, তারা ‘মুনাফেকি’ গণতন্ত্র করে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘পুরুষ পুলিশ কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে দলের মহিলা নেতা-কর্মীদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, মঈন খান, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করে পুলিশ।