বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখেছে সরকার এ অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি চেয়ারপারসনকে মুক্তির দাবিতে ডাকা আন্দোলনে সবাইকে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে ফখরুল বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছাড়েননি। সরকার বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে তার নামে।
গতকাল মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকারবিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন আর সংগত কারণেই তা পেয়েছেন—এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হয়েছে— কাজেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের পাসপোর্ট তার কোনো কাজে লাগছে না। যখনই তিনি দেশে ফেরার মতো সুস্থ হবেন, তখনই তিনি দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতোই পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানাতে এবং তা অর্জন করতে পারবেন জানান ফখরুল।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্রেফ জমা রাখার জন্য ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র বিভাগ থেকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানোর যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তার দ্বারা কোনো আইন কিংবা যুক্তিতে প্রমাণ হয় না যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন।
সম্প্রতি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে শাহরিয়ার আলম বলেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেছেন— তিনি পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
এ বক্তব্যের পর গতকাল লন্ডনে পলাতক তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারকে আইনি নোটিশ পাঠান।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে এ কর্মসূচি বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে।
মানববন্ধনের এ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপি কার্যালয়ের আশে-পাশে কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে পুলিশ।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
তার মুক্তির দাবিতে ডাকা তৃতীয় দফা এ মানববন্ধন কর্মসূচি সারাদেশের মহানগর ও জেলা সদরেও পালন করা হচ্ছে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা নয়া পল্টনের মানববন্ধনে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের নেতারাও আছেন।
এ কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই নেতা-কর্মীরা নয়াপল্টন সমবেত হয়ে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, মুক্তি চাই’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’- ইত্যাদি শ্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ও ৮ মার্চ দুই দফায় ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন করেছে বিএনপি।