আগামী নির্বাচনে ভূমিকা চেয়ে সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় তিন নেতা গোপনে ভারত সফর করেন— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলের ভিতরে।
দলের একটি অংশ বলছে; বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনে জিততে ভারতের সমর্থন দরকার। তাই ভারত বিরোধিতার পুরনো নীতি বদলাতে হবে।
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়ায় বিমর্ষ দলের অনেক নেতা।
বিবিসিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও দলের আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ভারতে যান।
সফরে তারা ভারতের ক্ষমতাশীন বিজেপি, বিরোধী দল কংগ্রেস ও কিছু রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গেছে।
কূটনীতিকদের একটি পক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দলটির সাক্ষাৎ হয়েছে।
বিএনপির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবিরের 'দ্য হিন্দুকে' দেয়া এক মন্তব্য দলের ভেতরে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তিনি বিএনপি সরকারের বিগত আমলগুলোতে ভারত ও বাংলাদেশের খারাপ সম্পর্ককে 'ভুল ও বোকামি' নীতি হিসাবে আখ্যা দেন।
এই বক্তব্যের পর দলের নেতাদের মধ্যে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। তবে তারেক রহমানের সম্মতিতে এই সফর হওয়ায় ঢাকার কেন্দ্রীয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চুপ রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন নেতা বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণেই ভারতঘেঁষা ক্ষমতাসীনরা।
বিএনপির ফরেন উইংয়ের একটি প্রভাবশালী সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি রাজনৈতিকভাবে আদায় করতে হলে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া দরকার এবং নির্বাচনে ভারতকে প্রয়োজন।
তবে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভারতে যারা গিয়েছেন তারা ব্যক্তিগত সফরেও যেতে পারেন।