এদেশের রাজনীতির মূলধারা আজও ধরে রেখেছে আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ-শনিবার।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের। প্রতিষ্ঠাকালের সূচনায় যার নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা ভাসানী আর শামসুল হক। ছিলেন আরেকজন তিনি বঙ্গবন্ধু - যার সঙ্গে এই আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রার ইতিহাস এক ও অবিচ্ছেদ্য।
আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এই দলটির নেতৃত্বেই সংগঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ, আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের। স্বাধীনতার পর সেই আওয়ামী লীগ এখন ৪র্থ বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন, নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এদেশের রাজনীতির মূলধারা আজও ধরে রেখেছে দলটি।
বাঙালির মুক্তির প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রামে যে দলটির নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত সে দলটি আওয়ামী লীগ। সেই ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে, ৫৪'র যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন, ৬৬'র ছয় দফা, ৭০'র নির্বাচন, আর ৭১'র মহান মুক্তিযুদ্ধ_বাঙালির বিজয় গাঁথার এ ইতিহাস কখনো আওয়ামী লীগকে ছাড়া লেখা যাবে না। ১৯৪৯'র এই দিনে পুরান ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে দলটির জন্ম। পাকিস্তানের শাসন, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চিন্তাকে সামনে এনে ১৯৫৫ সালে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষতার চেতনা নিয়ে সংগঠনটি নাম পরিবর্তন করে হয় আওয়ামী লীগ।
দলটির জন্মলগ্ন থেকে যে নেতার নামটি শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাঙালির মুক্তির জাগ্রত কণ্ঠে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ।
ইতিহাসবিদ হারুন-অর-রশিদ বলেন, হত্যা, ষড়যন্ত্র, ক্যু-পাল্টা ক্যু'র রাজনীতি এদেশের গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় বারবার বাধা দিলেও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ তার অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে।
বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর ও ১৯৯৬ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঁচ বছর আর বর্তমানে টানা সাড়ে নয় বছর, এই দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।