হেরে যাওয়ার ভয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচন আওয়ামী লীগ বানচাল করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হুমকি ও গণগ্রেপ্তার চালানো হচ্ছে বলে আবারো অভিযোগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজধানীতে আলাদা অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন।
মওদুদ আরো বলেন, আওয়ামী লীগই দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিল যা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালেরও ষড়যন্ত্র করতে পারে এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারাতে চাইবে না, হারলে তারা যে লাখ লাখ কোটি টাকা বানিয়েছেন, মানুষকে অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন সবকিছু ধরা পড়ে যাবে। সেই ভয়ে তারা নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করতে পারে।’
খুলনা সিটির মত নির্বাচন যদি গাজীপুর সিটিতেও হয় তার পরিণাম ভাল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ব্যারিস্টার মওদুদ।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে অপর তিন সিটিতে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের পরে আমরা চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেব রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা। আমরা মনোনয়ন দেবো, সবকিছুই করবো। কিন্তু গাজীপুরের নির্বাচন দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। নির্বাচনের সময় খুব বেশি একটা নেই। সুতরাং এখন সময় এসেছে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা প্রতিহত করার শক্তি অর্জন করতে হবে।’
সরকারের উদ্দেশ্যে মওদুদ বলেন, ‘যতই আটকিয়ে রাখেন কোনো লাভ হবে না। একদিন খালেদা জিয়াকে ছাড়তেই হবে। আমরা তাকে নিয়েই নির্বাচনে যাবো।’
নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সাবেক চিফ হুইপকে পেটানোর পরও গাজীপুরের এসপি হারুনের প্রমোশন হয়েছে, তাকে সরিয়ে দেয়ার দাবি করলেও নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি।
যে নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে একজন এসপিকে বদলি করতে পারে না— সে কমিশনের ওপর কীভাবে মানুষ আস্থা রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।