রাজনীতি

খালেদা জিয়ার হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়

খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো ‘গুরুতর’ অসুস্থ— তিনি দর্শনার্থীদের সঙ্গে নিচে নেমে কথা বলেন। কিন্তু এখন তিনি অসুস্থতার কারণে দোতলা থেকে নিচে নামতেই পারছেন না— এখনো তিনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। তার হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, গতকাল খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করেন।

খালেদা জিয়ার ওপর সরকারপ্রধানের ‘প্রতিহিংসা’ এক অশুভ অপশাসনের বার্তা দেয়। দলের পক্ষ থেকে সরকারের নির্দয় আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন রিজভী।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তিন সিটিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের রাত-দিন গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীরা ‘জনসমর্থনহীন’। আর এসব প্রার্থীকে জেতাতে তৎপর হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ধানের শীষের আবেদন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। খুলনা ও গাজীপুরের স্টাইল—গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্রমাগত হত্যা করার স্টাইল। সেই স্টাইল ৩০ জুলাই তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখনো বলবৎ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বেআইনিভাবে জয়ী হতে চাইছে বলেই বেপরোয়া গ্রেপ্তার, গণগ্রেপ্তারসহ এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।

সরকারদলীয় প্রার্থীরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে—এ অভিযোগ করে রিজভী বলেন, তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া সংবর্ধনায় নিয়ে রিজভী বলেন, তাকে দেয়া এ সংবর্ধনায় মানুষের মনে ঘৃণার জন্ম হয়েছে।

জভী আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট নিয়ে দেখুন, জীবন যন্ত্রণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে গণসংবর্ধনা নিয়েছেন তাতে মানুষের মধ্যে কী প্রতিফলন হয়েছে।

দেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে –প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমরা উন্নয়ন দেখছি, বিশুদ্ধ সোনা কিভাবে ধাতুতে পরিণত হয়, এটা যদি প্রধানমন্ত্রী বলতেন তাহলে আমরা খুব খুশী হতাম। রিজার্ভ ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা হাওয়ায় মিলিয়ে যায় এগুলো নিয়ে সংবর্ধনায় তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কিছু বলেননি। শুধু অনর্গল মিথ্যা কথা, যেটা একেবারেই আওয়ামী লীগ সরকারের স্বভাবধর্ম তিনি সেটাই বলেছেন। এখানে নতুন কিছু দেখিনি।

রিজভী বলেনে, বড় পুকুরিয়ায় ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা উধাও। এই যে গায়েব, চারিদিকে যত গায়েবের উন্নয়ন, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেননি।

তিনি বলেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই করেছে। এটার জন্য উনার (শেখ হাসিনা) একটা গণসংবর্ধনা প্রয়োজন। সেটা এখনও কেন তারা দিল না। এটাও হয়তো তিনি পাবেন কিছুদিনের মধ্যেই।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

দেশটিভি/আরসি
দেশ-বিদেশের সকল তাৎক্ষণিক সংবাদ, দেশ টিভির জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখতে, সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল:

এছাড়াও রয়েছে

রওশন এরশাদের সঙ্গে রাঙ্গা

বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে বিরোধী দলের নেতারা যা বলছেন

এবার আরেক উপদেষ্টাকে অব্যাহতি দিলেন জিএম কাদের

জোর-জবরদস্তির নির্বাচন হবে, এমন মেসেজ পাচ্ছি: জিএম কাদের

আমরণ অনশনের ঘোষণা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের

আলোচিত মহিউদ্দিন মহারাজের মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রধানমন্ত্রী সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বীরদর্পে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে: মির্জা আজম

যা যা চাওয়া হয়েছে ভারত সব দিয়েছে: সেতুমন্ত্রী

সর্বশেষ খবর

স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নারী দিবস উদযাপন

শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করলেন মোস্তাফিজুর রহমান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইউল্যাব’ শিক্ষার্থীদের ফটোওয়াক

ভান্ডারিয়া ও মঠবাড়িয়ায় পৌর প্রশাসক নিয়োগ