জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপি যে শর্তগুলো দিচ্ছে তা আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব কি-না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলেন, বিএনপি নেত্রীর মুক্তি, নিরপেক্ষ সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়াসহ যে শর্তের কথা দলটি বলছে তা সরকার কখনোই মেনে নিবে না।
বরং সরকারের বিষয়গুলো সরকার আদালত ও সংবিধানের ওপর ছেড়ে দিবে।
শর্তগুলো বাস্তবায়নে বিশ্লেষকদের পরামর্শ হলো-বিএনপিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের পাশাপাশি প্রকাশ করতে হবে ক্ষমতাসীনদের বিপরীতে উন্নয়নের নানা রুপরেখা।
গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবির পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা।
গত শুক্রবার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অনেকগুলো শর্ত তুলে ধরেন নেতারা। যেখানে বলা হয়- বাংলাদেশে নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর পূর্ব শর্ত খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
বিএনপির এই শর্ত পূরণ আদৌ সম্ভব কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারা বলেন- বিএনপি যে ধরনের আন্দোলন নিয়ে মাঠে আছে তা দিয়ে এই দাবি আদায় সম্ভব না।
অন্যদিকে সরকার এ শর্তগুলো বাস্তবায়নে একেবারেই গুরুত্ব দিবে না বরং বিষয়গুলো ছেড়ে দিবে আদালত ও সংবিধানের ওপর।
আগামী নির্বাচনে বিএনপির দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পাশাপাশি সরকারের বিপরীতে উন্নয়নের বিভিন্ন রুপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরার পরামর্শও দেন বিশ্লেষকরা।